নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা, বাংলাদেশ — বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গভীর স্থবিরতা দেখা দিয়েছে, যা বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং দারিদ্র্য পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক অবস্থায় নিয়ে গেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন মাত্র ৬৮ শতাংশের নিচে নেমেছে, যা ইতিহাসে সর্বনিম্ন। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসেও উন্নয়ন ব্যয়ের গতি মন্থর, এবং পাঁচটি মন্ত্রণালয় এখনও কোনো ব্যয় করতে পারেনি।
বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ কমে গেছে, ব্যাংক ঋণের প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের নিচে নেমেছে, এবং নতুন ব্যবসা বা কারখানা চালুর প্রবণতা প্রায় থেমে গেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ৩.৬৯ শতাংশ, যা পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) চলতি অর্থবছরের জন্য জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৫.৪ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪.৯ শতাংশে নামিয়েছে।
এই অর্থনৈতিক সংকট সাধারণ মানুষের জীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। কর্মসংস্থান হ্রাস পেয়েছে, এবং মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দিয়েছে। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ৩০ লাখ মানুষ নতুন করে অতি দারিদ্র্যে নিমজ্জিত হতে পারে। দারিদ্র্যের হার ১৮.৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ২১.২ শতাংশে পৌঁছেছে, এবং পিপিআরসির গবেষণা বলছে, প্রায় ৪ কোটি মানুষ বহুমাত্রিক দারিদ্র্যে রয়েছে।
মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) এবং পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের (পিইবি) ‘বাংলাদেশ বিজনেস ক্লাইমেট ইনডেক্স ২০২৪-২৫’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যবসায়িক পরিবেশ এখনও সহায়ক মানের নিচে রয়েছে। সূচকের স্কোর সামান্য বেড়ে ৫৯.৬৯ পয়েন্টে পৌঁছলেও, এটি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানোর জন্য যথেষ্ট নয়। ব্যবসা অবকাঠামোর স্কোর ৭১.০৮ থেকে কমে ৬৮.৮২, এবং বাণিজ্য সহজীকরণের স্কোর ৫৯.৫৬ পয়েন্টে নেমেছে।
ব্যবসায়িক সংগঠনগুলো জানিয়েছে, রাজনৈতিক অস্থিরতা, নীতির অভাব, দুর্নীতি, এবং জ্বালানি সংকট বিনিয়োগকে নিরুৎসাহিত করছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, জরুরি সংস্কার এবং দীর্ঘমেয়াদি নীতি ছাড়া অর্থনীতি আরও গভীর সংকটের দিকে যাবে।
অ্যামচেম সভাপতি সৈয়দ এরশাদ আহমেদ বলেন, “ব্যবসায়ীদের রক্তক্ষরণ হচ্ছে। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে অর্থনীতি গভীর সংকটে পড়বে।”
বিশেষজ্ঞরা নীতিগত ধারাবাহিকতা, জ্বালানি নিরাপত্তা, দুর্নীতি দমন, ব্যাংকিং সুশাসন, এবং লজিস্টিক অবকাঠামোতে বিনিয়োগের ওপর জোর দিয়েছেন। তা না হলে, অর্থনীতির ভিত আরও নড়বড়ে হবে বলে আশঙ্কা তাদের।
