ইউনূস সরকারের শাসনে খুন-ধর্ষণসহ সকল অপরাধের বাম্পার ফলন

ইউনূস সরকারের শাসনে খুন-ধর্ষণসহ সকল অপরাধের বাম্পার ফলন
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীসহ সারাদেশে খুন, ধর্ষণ, অপহরণ, চাঁদাবাজি, অস্ত্রের মহড়াসহ সকল ধরনের অপরাধ ও সহিংসতার যেন বাম্পার ফলন হয়েছে। দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থাগুলোর বিভিন্ন প্রতিবেদন এবং পুলিশ সদর দপ্তরের প্রকাশিত তথ্য বলছে, ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে গত ১৪ মাসে সহিংসতা ও অপরাধের হার অতীতের সকল রেকর্ড ছাপিয়ে গেছে।

গত মাসে প্রকাশিত হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) এর সর্বশেষ প্রতিবেদন বলছে, চলতি বছরের ৯ মাসে সারাদেশে সহিংসতার ঘটনায় ৩০০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে রাজনৈতিক সহিংসতায় ১০৭ জন এবং মব সন্ত্রাস বা গণপিটুনিতে ১৩০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া অজ্ঞাত কারণে লাশ পড়েছে একশ’র বেশি। একই সময়ে ৬৬৩ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৯ জনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। এছাড়া দুই সাংবাদিককে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যার ঘটনাও ঘটেছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যায়। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য দেখা যায়নি। গত বছরের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনকারীরা ৪৬০টির বেশি থানা ও পুলিশ ফাঁড়ি ধ্বংস এবং অসংখ্য পুলিশ সদস্যকে হত্যা করেছে। এসব থানা ও ফাঁড়ি থেকে লুট হয়েছে বিপুল সংখ্যক অস্ত্র-গোলাবারুদ। যার বড় অংশ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। বরং স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলছেন, অস্ত্র লুট হলে খুব বেশি উদ্ধার করা সম্ভব হয় না। এসব অস্ত্র ব্যবহার হচ্ছে বিভিন্ন অপরাধে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা চোখে পড়ার মত নয়। তারা ব্যস্ত আওয়ামী লীগ কর্মীদের আটক করার কাজে।

অপরাধবিষয়ক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সীমাবদ্ধতা, রাজনৈতিক প্রভাব এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি অপরাধ বৃদ্ধির প্রধান কারণ।

মানবাধিকারকর্মী এলিনা খান বলেন, “ইউনূস সরকারের আন্তরিক উদ্যোগ ও রাজনৈতিক ঐক্য ছাড়া এই সহিংসতার লাগাম টানা সম্ভব নয়। সব দলকে আলোচনার টেবিলে না আনতে পারলে নির্বাচনের আগে পরিস্থিতি আরও নাজুক হতে পারে।”

তিনি আরও জানান, সাম্প্রতিক সময়ে সহিংসতা ও ধর্ষণের হার গত সরকারের সময়ের তুলনায় ১০ থেকে ১৫ গুণ বেশি, যা দেশের বিচারব্যবস্থা ও নাগরিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রশাসনিক দুর্বলতা, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে নাজুক করে তুলেছে। মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রমে সমন্বয়ের অভাব ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে অপরাধীরা দণ্ডহীনতার সুযোগ পাচ্ছে। ফলে চাঁদাবাজি, মব জাস্টিস ও রাজনৈতিক সহিংসতা ক্রমেই বাড়ছে।

ইউনূস সরকারের দৃশ্যমান কোনো রোডম্যাপ না থাকা এবং অপরাধ দমনে সমন্বিত পদক্ষেপের অভাবে জনগণের মধ্যে ভয়, অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি বাড়ছে বলে মনে করেন তারা।

Visited 31 times, 1 visit(s) today