বিশেষ প্রতিবেদক
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে জান্তার সেনাবাহিনীর সৈন্য এবং সশস্ত্র রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের সম্মিলিত আক্রমণের মুখে পড়েছে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি। এই সাম্প্রতিক সংঘর্ষে উভয় পক্ষ থেকে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে, যা অঞ্চলের ইতিমধ্যে অস্থিতিশীল পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
নর্থইস্ট নিউজের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, জান্তার সৈন্যরা আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রিত এলাকায় অভিযান চালিয়েছে, যাতে রোহিঙ্গা আরসা নামক গোষ্ঠীর সশস্ত্র সদস্যরা যোগ দিয়েছে। এই সম্মিলিত হামলায় আরাকান আর্মির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু হয়েছে, ফলে তীব্র গুলিবর্ষণ ও বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, গত ৪৮ ঘণ্টায় অন্তত ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে আরাকান আর্মির লড়াকু, জান্তার সৈনিক এবং রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরা রয়েছে। এছাড়া, শতাধিক বেসামরিক বাসিন্দা বাস্তুহারা হয়েছে এবং আশপাশের গ্রামগুলোতে অস্থায়ী শরণার্থী শিবির গড়ে উঠেছে।
আরাকান আর্মির একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, “এই সম্মিলিত আক্রমণ জান্তার দমনমূলক নীতির অংশ, যাতে তারা রাখাইন জাতিগোষ্ঠীকে দুর্বল করতে চায়। রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের সাথে জান্তার এই জোট আমাদের স্বায়ত্তশাসনের সংগ্রামকে চ্যালেঞ্জ করছে।”
অন্যদিকে, রোহিঙ্গা গোষ্ঠীগুলো দাবি করেছে যে, তারা নিজেদের অধিকার রক্ষার জন্য এই লড়াইয়ে অংশ নিচ্ছে, যদিও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এই সংঘর্ষকে জাতিগত উত্তেজনার ফল হিসেবে দেখছেন।
মিয়ানমারের জান্তা সরকার এখনও এই ঘটনা নিয়ে কোনো অফিসিয়াল মন্তব্য প্রকাশ করেনি, কিন্তু সামরিক সূত্রগুলো বলছে যে, অভিযান চালিয়ে যাওয়া হবে যতক্ষণ না বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করা যায়। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা এই সংঘর্ষের কারণে বেসামরিকদের উপর পড়া চাপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন।
রাখাইন অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে জাতিগত সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু, যেখানে ২০১৭ সালের রোহিঙ্গাদের ওপর হামলার পর থেকে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। এই সাম্প্রতিক ঘটনা বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে শরণার্থী সংকটকে নতুন করে জাগ্রত করতে পারে, যেখানে ইতিমধ্যে লক্ষাধিক রোহিঙ্গা শরণার্থী বসবাস করছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এখন এই অঞ্চলে শান্তি প্রক্রিয়া জোরদার করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
