নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পূর্ববর্তী সময়ে ব্যাংক খাতে নিয়োগ পাওয়া বহু দক্ষ কর্মীকে সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিহিংসামূলক ছাঁটাই করেছে বিভিন্ন ব্যাংক। ইউনূস সরকারের চাপে এটি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে কর্মসংস্থান সংকুচিত হয়েছে, বিশেষ করে ব্যাংকে নারী কর্মীদের হার মারাত্মকভাবে কমেছে। অথচ সে অনুপাতে নতুন নিয়োগ না হওয়ায় ব্যাংক খাত একটি সুস্পষ্ট কর্মী সংকটে পড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৫ সালের জুনভিত্তিক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত দেশের ব্যাংক খাতে মোট কর্মীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৩ হাজার ২৬৭ জন, যা ২০২৪ সালের ডিসেম্বর শেষে ছিল ২ লাখ ১৪ হাজার ২৪৫ জন। অর্থাৎ ছয় মাসে ব্যাংক খাতে মোট কর্মী কমেছে ৯৭৮ জন। তবে এই সামগ্রিক হ্রাসের পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে নারী কর্মী হ্রাস, যা একই সময়ে কমেছে ১,৮৬৭ জন।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোতে নারী কর্মীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি কমেছে। মাত্র ৬ মাসে কমে ২৬ হাজার ৬৪ জন থেকে ২৪ হাজার ৫০ জনে, অর্থাৎ ২,০১৪ জনের হ্রাস। যেখানে রাষ্ট্রীয় বাণিজ্যিক, বিশেষায়িত ও বিদেশি ব্যাংকে নারীকর্মীর সংখ্যা সামান্য বেড়েছে।
বিভিন্ন স্তরের নারীকর্মীর অংশগ্রহণেও হ্রাস দেখা যাচ্ছে: প্রারম্ভিক পর্যায়ে: ১৮.৮৭% → ১৭.৬৬%, মধ্যবর্তী পর্যায়ে: ১৫.৯৬% → ১৫.৮৪%, পরিচালনা পর্ষদে: ১৩.৬১% → ১২.৯৭%, শুধুমাত্র উচ্চ পর্যায়ে কিছুটা বৃদ্ধি হয়েছে— ৯.৭৩% থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০.২৫%।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে যেসব নিয়োগ হয়েছিল, সরকার পরিবর্তনের পর তাদের অনেককে চাকরি হারাতে হয়েছে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ছিলেন নারী, যারা এখন আর ব্যাংকিং পেশায় ফিরে আসছেন না।’
এই পরিস্থিতিতে পুরুষ কর্মীর সংখ্যা কিছুটা বাড়লেও (৮৮৯ জন), সামগ্রিকভাবে ব্যাংক খাতের জনবল সংকুচিত হচ্ছে। একদিকে যেমন প্রশিক্ষিত ও অভিজ্ঞ নারী কর্মীদের হারানো হচ্ছে, অন্যদিকে নতুন নিয়োগ কার্যক্রম থমকে আছে, যা ভবিষ্যতের জন্য একটি গভীর কাঠামোগত সমস্যা সৃষ্টি করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষ জনবল ছাড়া ব্যাংক খাতের সেবা মান, গ্রাহকসেবা এবং প্রযুক্তিনির্ভর সিস্টেম চালু রাখার সক্ষমতা হুমকির মুখে পড়তে পারে। পাশাপাশি নারী অংশগ্রহণ কমে যাওয়ার ফলে ব্যাংক খাতের অন্তর্ভুক্তিমূলকতা ও বৈচিত্র হ্রাস পাচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
