নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর বাজারে নিত্যপণ্যের লাগামহীন দাম টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে যে বাড়ছে সেটা অব্যাহত রয়েছে। মাছ, মাংস, ডিম, ডাল থেকে শুরু করে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বাড়ায় অতিরিক্ত দামে ভোক্তাদের হাঁসফাঁস অবস্থার মধ্যে ফেলেছে।
শুক্রবার রাজধানীর কাওরানবাজার, মিরপুর, মোহাম্মদপুরের কাঁচাবাজার ঘুরে এ চিত্র পাওয়া গেছে।
সাধারণ ক্রেতারা বলছেন, আয়-ব্যয়ের হিসাব মিলছে না, ব্যয় কাটছাঁট করেও স্বস্তি পাচ্ছে না ক্রেতারা। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের অবস্থা আরো করুণ হয়ে উঠেছে।
গত দুই মাসের ব্যবধানে দেশি পেঁয়াজ, ডাল, মুরগির ডিম, মাছ ও সবজির দামই অস্বাভাবিক বেড়েছে।
টিসিবির বাজারদর পর্যালোচনায় দেখা যায়, দেশি পেঁয়াজ কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ৭৫-৮০ টাকায়।
ফার্মের মুরগির ডিম ডজনপ্রতি ১৩৫-১৪৫ টাকা, দেশি মসুর ডাল কেজিপ্রতি ১৬০-১৮০, করলা ১০০-১২০, ঢেঁরস ও পটোল ৮০-১০০, বরবটি ১০০-১২০, শসা ৮০, ঝিঙা ৮০-১০০, দুন্দল ৯০-১০০, চিচিঙা ৮০-৯০, নতুন শিম ২২০-২৪০ ও কাঁচামরিচ ১৮০-২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সবচেয়ে সস্তা সবজি হিসেবে পাওয়া যাচ্ছে পেঁপে, যার দামও ৩৫-৪০ টাকা কেজি। আর আলুর দাম কেজিপ্রতি ২৫-৩০ টাকা।
এমন পরিস্থিতিতে ক্রেতারা দিশাহারা হয়ে পড়েছে।
কাওরানবাজারের ক্রেতা মো. ফরহাদ বলেন, দিন যাচ্ছে আর সবজির দাম বাড়ছে, সরকারের কোনো নজরদারি নেই। মাছ-মাংস কিনতে গেলে কয়েক হাজার টাকা নিয়ে যেতে হয়।
এখন ছোট মাছের দামও নাগালের বাইরে। সীমিত আয়ের মানুষ প্রতি মাসে ঋণ না করলে সংসার চালাতে পারছে না।
মিরপুরের ক্রেতা আবু বক্কর বলেন, এক বছর আগেও মাছ-মাংসের দাম বেশী থাকলেও তখন ডিম ও সবজির দাম কম ছিল। এখন ডিম, সবজি—সব কিছুর দাম আকাশচুম্বী।
অন্যদিকে বিক্রেতারাও বলছে, টানা বৃষ্টির কারণে কৃষকের ক্ষেতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, ফলে সরবরাহ কমেছে।
বাড্ডা বাজারের সবজি বিক্রেতা ইউনুস মিয়া জানান, পাইকারি বাজারেই আগের চেয়ে দ্বিগুণ দামে সবজি কিনতে হচ্ছে। ফলে খুচরায়ও বেশি দামে বিক্রি করতে হয়। দাম বাড়ায় ক্রেতারা সবজি কেনা কমিয়ে দিয়েছে, এতে আমাদেরও লোকসান হচ্ছে।
বাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা সরবরাহ ঘাটতি নয়, বাজারে ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ও তদারকির অভাবও দায়ী। বাজার তদারকি না থাকায় অসাধু ব্যবসায়ীরা অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়িয়ে ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে।
