তিন মাসে আরও ছয় হাজার নতুন কোটিপতি, সাধারণের ভাগ্যে কেবলই শূন্যতা

তিন মাসে আরও ছয় হাজার নতুন কোটিপতি, সাধারণের ভাগ্যে কেবলই শূন্যতা
শেয়ার করুন

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পরেও ব্যাংক হিসাবের পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে বৈষম্যের নগ্ন চিত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে আবারও স্পষ্ট হলো—দেশে অর্থ কেবল ধনীদের হাতেই জমা হচ্ছে, আর সাধারণ মানুষ হচ্ছে আরও অসহায়। জুন প্রান্তিক শেষে দেশে এক কোটি টাকার বেশি স্থিতি রয়েছে এমন ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার ৩৩৬টি। মাত্র তিন মাস আগেও সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২১ হাজার ৩৬২টি। অর্থাৎ এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে নতুন করে প্রায় ছয় হাজার মানুষ বা প্রতিষ্ঠান ‘কোটি টাকার ক্লাবে’ ঢুকে পড়েছে।

শুধু সংখ্যাই নয়, এসব হিসাবে জমা টাকার অঙ্কও হতবাক করার মতো। জুন শেষে কোটি টাকার হিসাবে আমানত দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ৮০ হাজার ৭৭২ কোটি টাকা—তিন মাসে বেড়েছে প্রায় ৯৭ হাজার ১১৯ কোটি টাকা।

প্রশ্ন হচ্ছে—এ বিপুল অর্থ এলো কোথা থেকে? কারা এই সম্পদশালী? তাদের আয়ের উৎস কতটা বৈধ? কোনো উত্তর নেই, কারণ বাংলাদেশ ব্যাংক মালিকানা প্রকাশ করে না।

অন্যদিকে গরিব ও মধ্যবিত্তদের জন্য এই ব্যাংক খাত যেন এক বিভীষিকা। জুন শেষে দেশে মোট ব্যাংক হিসাব দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৭ কোটি। এর মধ্যে তিন মাসে নতুন করে যুক্ত হয়েছে প্রায় ৩৩ লাখ হিসাব। কিন্তু এসব নতুন গ্রাহকের আমানত মিলিয়ে বেড়েছে মাত্র ৭৩ হাজার ৭৫ কোটি টাকা—যা ধনীদের তুলনায় নগণ্য। বাস্তবতা হলো, গরিবেরা ব্যাংকে নামমাত্র টাকা জমা রাখছে, আর ধনীরা পাহাড়সম অর্থ গচ্ছিত রাখছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এ চিত্র বৈষম্যের নগ্ন প্রকাশ। একদিকে কোটি টাকার আমানত প্রতিদিন ফুলেফেঁপে উঠছে, অন্যদিকে দেশের অধিকাংশ মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতেই হিমশিম খাচ্ছে। অথচ সরকার কিংবা বাংলাদেশ ব্যাংক কেউই এই বৈষম্য রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। বরং ধনীদের জন্য সুবিধাই বাড়ছে, আর গরিবের ভাগ্যে জুটছে শুধু শূন্যতা।

Visited 11 times, 1 visit(s) today