নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ — বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এক পোস্টে অভিযোগ করেছে যে অবৈধ ড. ইউনুস সরকারের এক বছরেরও কম সময়ের শাসন দেশের গত দুই দশকের অর্থনৈতিক অর্জন মুছে দিয়েছে। দলটির দাবি, আজ জাতীয় অর্থনীতি ভয়াবহ সংকটে নিমজ্জিত, যা থেকে উত্তরণের জন্য দীর্ঘ সময় ও সুপরিকল্পিত সংস্কার প্রয়োজন হবে।
পোস্টে বলা হয়েছে, ইউনুস সরকারের উপদেষ্টারা আওয়ামী লীগ আমলে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচারের অভিযোগ তুললেও এর কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ হাজির করা যায়নি। বরং বাস্তবে এই সরকারের সময়েই বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রেকর্ড পরিমাণে কমেছে এবং বিদেশি ব্যাংকে অর্থ পাচারের অভিযোগ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আওয়ামী লীগের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব অভিযোগ জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন দিকে সরানোর কৌশল মাত্র।
আওয়ামী লীগের দাবি, অব্যবস্থাপনা ও নীতিহীনতার কারণে দেশের অর্থনীতিতে কয়েকশ’ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে, যা বিগত দুই দশকের উন্নয়নকে মুছে দিয়েছে। দুর্নীতি ও অদূরদর্শিতার কারণে আজ বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সূচকে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত পাঁচ দেশের মধ্যে অবস্থান করছে। এ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষ। দলের দাবি, দেশের প্রায় ৬০ ভাগ মানুষের অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে। লাগামহীন দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, বেকারত্ব ও বিনিয়োগ হ্রাসের ফলে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
পোস্টে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালে প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার বিদেশি বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু অস্থিতিশীল পরিবেশ, অবৈধ শাসন ও জঙ্গীবাদের উত্থানের কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা পিছু হটেছে। এতে শিল্পখাতের প্রবৃদ্ধি থেমে গেছে এবং হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের দাবি, ড. ইউনুস সরকারের আমলে জঙ্গী সংগঠনগুলো নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা দেশের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন ও নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।
আওয়ামী লীগ অভিযোগ করেছে যে অভ্যন্তরীণ শিল্পখাতেও বড় ধরনের ধস নেমেছে এবং ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে, রপ্তানি হ্রাস পেয়েছে এবং অসংখ্য শিল্প প্রতিষ্ঠান টিকে থাকার সংগ্রামে জর্জরিত।
পোস্টের শেষাংশে আওয়ামী লীগ মন্তব্য করে যে ড. ইউনুস সরকারের শাসন প্রমাণ করেছে অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসে জনগণের কাছে কোনো জবাবদিহিতা ছাড়া শাসন করার পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে। অর্থনীতির পতন, বিনিয়োগের ভাটা, জঙ্গীবাদের উত্থান এবং দুর্নীতির পাহাড় মিলিয়ে দেশ আজ এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে এগোচ্ছে।
দলটি জনগণের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে বলেছে, বাংলাদেশের মানুষ যারা বারবার রক্ত দিয়ে গণতন্ত্র রক্ষা করেছে, তাদের আজ আবারও দায়িত্ব অবৈধ শাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো। আওয়ামী লীগের দাবি, কেবল গণতন্ত্র, সুশাসন ও জবাবদিহিতার পথেই দেশকে এই ধ্বংসযজ্ঞ থেকে মুক্ত করা সম্ভব।
