নিজস্ব প্রতিবেদক।
ঢাকা, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫: জুলাই আন্দোলনের পর রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সমালোচনামূলক কনটেন্ট তৈরির জন্য জনপ্রিয় ইউটিউবার এবং রাজনৈতিক কমেন্টেটর এস এ সাব্বির (এসএ সাব্বির) দীর্ঘ পাঁচ মাসের কারাবাসের পর আজ জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। বনানী থানার একটি মামলায় গ্রেপ্তারের পর তাকে অন্যায়ভাবে আরেকটি মামলায় পুনরায় কারারুদ্ধ করা হয়েছিল, যা নিয়ে অনলাইনে ব্যাপক প্রতিবাদ এবং #FreeSASabbir ক্যাম্পেইন চলছিল।
উচ্চ আদালতের নির্দেশে দ্বিতীয় মামলায় জামিন হওয়ার পর আজ তিনি কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ছাড়া পান। এই ঘটনা সরকারের বিরুদ্ধে মতা প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
বনানী থানায় ৪ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে দায়ের একটি মামলায় এস এ সাব্বিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই মামলায় প্রথমে জামিন প্রার্থনা মঞ্জুর হলেও, তাকে মুক্তি না দিয়ে পুলিশ অন্যায়ভাবে আরেকটি মামলায় পুনরায় গ্রেপ্তার দেখায়। এই দ্বিতীয় মামলায় উচ্চ আদালত ৪ সেপ্টেম্বর জামিন প্রদান করে।
পুলিস সাব্বিরকে তুলে নিয়ে যাবার পরের দুই মাস তার কোন খবর পাওয়া যায় নাই। থানায় বা ডিবিতে কোথাও কিছু লিপিবদ্ধ ছিল না। পরিবারের লোকজন নিখোঁজ সাব্বিরকে খুজতে ডিবি অফিস আর থানায় ধর্না দিলেও, কেউ সাব্বিরের সন্ধান দেয় নি। সোশ্যাল মিডিয়ার তীব্র প্রতিবাদের মুখে আর আন্তর্জাতিকভাবে ক্যাম্পেইনের পরে ১০ই জুন ২০২৫ সালে পুলিশ সন্ত্রাস বিরোধী আইনে সাব্বিরকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে হাজির করে।
আজ সকালে কাশিমপুর কারাগার থেকে ছাড়া পাওয়ার পর সাব্বিরের অনুসারীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আনন্দ প্রকাশ করছেন। তার পরিবার এবং সমার্থকরা জানান, সাব্বিরের স্বাস্থ্য ভালো রয়েছে এবং তিনি শীঘ্রই তার ইউটিউব চ্যানেলে ফিরে আসবেন। এস এ সাব্বির, যিনি তার ইউটিউব চ্যানেলে রাজনৈতিক বিশ্লেষণ, জুলাই আন্দোলনের ঘটনাপ্রবাহ এবং সরকারের সমালোচনা করে জনপ্রিয়তা লাভ করেছেন, গ্রেপ্তারের পর থেকে অনলাইনে ব্যাপক প্রতিবাদের মুখোমুখি হয়েছিল।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে #FreeSabbir, #JusticeForSabbir এবং #YunusMustGo-এর মতো হ্যাশট্যাগে হাজার হাজার পোস্ট শেয়ার হয়েছে। একটি পোস্টে লেখা হয়েছে, “সাব্বিরকে জেলে রাখা মানে সত্যের দমন। তিনি শুধু তথ্যভিত্তিক কনটেন্ট তৈরি করেছেন, কোনো গুজব ছড়াননি। তাকে ছাড়ে দিন।”
আরেকটি পোস্টে বলা হয়েছে, “দুই মাস ধরে তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ নেই। সাব্বির কি জীবিত? ইউনূস সরকারের ফ্যাসিবাদী মুখোশ খুলে গেল।”
গ্রেপ্তারের পর সাব্বিরের অনুসারীরা দাবি করেছেন যে, তাকে রাজনৈতিক কারণে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার ভিডিওগুলোতে ইউনূস সরকারের সমালোচনা এবং জুলাই আন্দোলনের পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে তথ্যভিত্তিক আলোচনা ছিল। যদিও জাতীর উদ্দেশ্যে ভাষনে ড ইউনুস বলেছিলেন “আপনারা মন খুলে আমাদের সমালোচনা করুন”। কিন্তু বাস্তব চিত্র পুরোপুরি ভিন্ন চিল এবং আছে।
মাইনরিটি ওয়াচের মতো সংস্থাগুলো বলেছে, সাব্বিরকে অ্যান্টি-টেররিজম অ্যাক্টের অধীনে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার উপর হামলা। সামাজিক মিডিয়ায় তার ছাড়ার খবর ছড়াতে না ছড়াতে হাজার হাজার মানুষ আনন্দ প্রকাশ করেছে এবং সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা তীব্র করেছে।
সাব্বিরের মুক্তির পর তার সমর্থকরা বলছেন, এটি জনগণের প্রতিবাদের জয়। কিন্তু প্রতিপক্ষ বলছে, এই ঘটনা সরকারের অধীনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কতটা সীমিত, তা প্রমাণ করে। সাব্বিরের ইউটিউব চ্যানেলে লক্ষাধিক সাবস্ক্রাইবার রয়েছে, এবং তার মুক্তি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় #WelcomeBackSabbir ট্রেন্ড করছে।
