বিশেষ প্রতিবেদক
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাম্প্রতিক ঘোষণায় আবারও তারেক রহমানের দেশে ফেরার সম্ভাবনা জাগানো হয়েছে। তিনি বলেছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ডিসেম্বরের আগে ফিরতে পারেন এবং তার জন্য গুলশানের চেয়ারপারসন অফিসে অফিস ও বাসস্থান প্রস্তুত করা হচ্ছে।
তার এই ঘোষণা রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা ছড়ালেও, অতীতের বারবারের বিলম্বিত ঘোষণার কারণে নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় কৌতুকপূর্ণ মন্তব্য করে বলছেন, “ঈদের পরে আন্দোলনের চেয়ে তারেকের ফিরে আসতেই বেশি দেরি হয়েছে”।
মির্জা ফখরুল আজ এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “তারেক খুব শীঘ্রই ফিরবেন। কিছু আইনি ও ব্যক্তিগত বিষয় মিটিয়ে নিতে হবে। নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণার আগেই ফিরতে পারেন।”
তিনি আরও জানান, তারেকের মা খালেদা জিয়া যদি শারীরিকভাবে সক্ষম না হন, তাহলে তারেকই দলের প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হবেন।
এর আগে গত ৭ই সেপ্টেম্বর দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদও বলেছেন, তারেকের প্রত্যাবর্তন “ঐতিহাসিক ঘটনা” হবে এবং এতে দলের নির্বাচনী প্রচারের অর্ধেক কাজ সম্পন্ন হয়ে যাবে।
কিন্তু এই ঘোষণাগুলো নতুন নয়। গত এক বছরে বিএনপি নেতারা বারবার তারেকের ফেরার কথা বলেছেন, কিন্তু কোনোটাই বাস্তবায়িত হয়নি। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত বছরের ৫ই আগস্ট মির্জা ফখরুল প্রথম ঘোষণা দেন, “তারেককে অবিলম্বে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।” এরপর গত বছরের ডিসেম্বরে ফখরুল লন্ডন থেকে ফিরে বলেন, “সব আইনি বাধা দূর হলে তারেক ফিরবেন।” এ বছরের মার্চে তিনি আবার বলেন, “কোনো নির্দিষ্ট তারিখ নেই, কিন্তু সঠিক সময়ে ফিরবেন তারেক।” জুনে বললেন “তারেক শীঘ্রই ফিরবেন” এবং সর্বশেষ গত আগস্টের শুরুর দিকে তিনি নভেম্বর-ডিসেম্বরে তারেকের ফিরে আসার কথা বলেন। এমন বারবার তারিখ ঘোষণায় রাজনৈতিক মহলে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক সন্দেহের।
বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনের সময়সূচি ডিসেম্বরে ঘোষণা হলে তারেকের প্রত্যাবর্তন রাজনৈতিকভাবে কৌশলগত হতে পারে।
এ বিষয়ে নেটিজেনদের প্রতিক্রিয়া হাস্যরসাত্মক। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকে মিম শেয়ার করে বলছেন, “ঈদের পরে জুলাইয়ের ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়েছে, কিন্তু তারেকের প্রত্যাবর্তন এখনও অপেক্ষমান। কোনটা বেশি দেরি করেছে?”
অন্যরা বলছেন, “বাসা দেখে রাখা হয়েছে, কিন্তু তারেক কবে আসবেন, সেটা তো দেখা যাচ্ছে না!” এই হাস্যরসের মধ্যে রাজনৈতিক বিশ্লেষক মোহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, “তারেকের প্রত্যাবর্তন নির্ভর করছে নির্বাচনী পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তার উপর। বারবার ঘোষণা দলের সমর্থকদের উত্তেজিত রাখার কৌশল হতে পারে, কিন্তু বাস্তবে বিলম্ব হলে বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ হয়।”
তারেক রহমান ২০০৮ সাল থেকে লন্ডনে বসবাস করছেন। আওয়ামী লীগের আমলে তার বিরুদ্ধে বেশ কিছু মামলা হয় এবং তিনি যাবজ্জীবন সাজা পান একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলার পরিকল্পনাকারী হিসেবে। সাজা পান দশ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালানের অন্যতম হোতা হিসেবে।
কিন্তু গত বছরের জঙ্গি হামলার মাধ্যমে রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনৈর পর তার নামে সব মামলায় খালাস দেওয়া হয়। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী অবশ্য বলেছেন তারেকের ফিরে আসতে কোনো বাধা নেই, তিনি যখন চান ফিরতে পারেন;- তবে বিএনপির নেতাকর্মীরা এখনো নিশ্চিত নন আদৌ তারেক ফিরবেন কিনা।
