নিজস্ব প্রতিবেদক। ঢাকা, ২১শে আগস্ট, ২০২৫, বৃহস্পতিবার।
রাজধানীর সায়েন্সল্যাব এলাকায় ঢাকা কলেজ ও ঢাকা সিটি কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুনরায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট ২০২৫) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে এই ঘটনা ঘটে, যখন সায়েন্সল্যাব এলাকা থেকে কিছু শিক্ষার্থী সশস্ত্র অবস্থায় ঢাকা কলেজের দিকে অগ্রসর হচ্ছিলেন। সাংবাদিকরা ঘটনার ছবি তুলতে গেলে তাদের বাধা দেওয়া হয়। সংঘর্ষের সুনির্দিষ্ট কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য এখনও স্পষ্ট না হলেও, এই ঘটনা দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও উত্তেজনার ধারাবাহিকতার ইঙ্গিত দেয়।
ঢাকা কলেজ ও সিটি কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ নতুন কোনো ঘটনা নয়। গত কয়েক বছরে এই দুই কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে একাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, যা সায়েন্সল্যাব এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, যানজট এবং স্থানীয় জনজীবনে প্রভাব ফেলেছে। উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটনার মধ্যে রয়েছে:
২০ নভেম্বর ২০২৪, সায়েন্সল্যাব এলাকায় বাসে ওঠা নিয়ে বাগবিতণ্ডার জেরে ঢাকা কলেজ ও সিটি কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। ঢাকা কলেজের দুটি বাস ভাঙচুরের অভিযোগে উভয়পক্ষের শিক্ষার্থীরা একে অপরের ওপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হন, যাদের মধ্যে ১১ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পুলিশ ও সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে।
১৫ এপ্রিল ২০২৫, সায়েন্সল্যাব ফুটওভার ব্রিজের নিচে সিটি কলেজের শিক্ষার্থীদের অবস্থান ও ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের পাল্টা অবস্থানের কারণে সংঘর্ষ শুরু হয়। এই ঘটনায় কয়েকটি দোকানপাট ভাঙচুর ও বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েন।
ঢাকা কলেজ ও সিটি কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের মূল কারণ প্রায়শই তুচ্ছ ঘটনা থেকে উদ্ভূত হয়। বাসে ওঠা নিয়ে বিতর্ক, ব্যক্তিগত শত্রুতা, অথবা একটি দলের উপর অন্য দলের আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা এই সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটায়। ২১ আগস্টের ঘটনায় সশস্ত্র শিক্ষার্থীদের অগ্রসর হওয়ার বিষয়টি ইঙ্গিত দেয় যে এটি একটি পরিকল্পিত বা পূর্বপ্রণোদিত ঘটনা হতে পারে। তবে, সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও অজানা।
দুই কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও আঞ্চলিক আধিপত্যের মনোভাব এই সংঘর্ষের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সায়েন্সল্যাব এলাকার ভৌগোলিক অবস্থান, যেখানে দুটি কলেজই কাছাকাছি অবস্থিত, এই উত্তেজনাকে আরও জটিল করে তুলেছে। এছাড়া, কলেজ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার অভাব এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তির অন্যতম কারণ।
পূর্ববর্তী ঘটনাগুলোতে পুলিশ ও সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করেছে। তবে, এই ব্যবস্থাগুলো প্রায়শই অস্থায়ী সমাধান হিসেবে কাজ করে। দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য কলেজ প্রশাসন, শিক্ষার্থী নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
এই ধরনের সংঘর্ষ স্থানীয় জনজীবনে ব্যাঘাত ঘটায়, যানজট সৃষ্টি করে এবং ব্যবসায়ীদের ক্ষতির মুখে ফেলে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও শিক্ষার পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সাংবাদিকদের বাধা দেওয়ার ঘটনা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার উপর প্রশ্ন তুলেছে, যা ঘটনার স্বচ্ছ তদন্তের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
ঢাকা কলেজ ও সিটি কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বারবার সংঘর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও স্থানীয় জনজীবনের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সমস্যার সমাধানে কলেজ প্রশাসন, শিক্ষার্থী প্রতিনিধি, এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। সংঘর্ষের মূল কারণ চিহ্নিত করে সংলাপ ও মধ্যস্থতার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী সমাধান খুঁজে বের করা প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
