নিজস্ব প্রতিবেদক। ঢাকা, ২১ আগস্ট ২০২৫, বৃহস্পতিবার
বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগছাস), যারা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের একটি ফ্রন্ট হিসেবে পরিচিত, তাদের বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যদের পাবলিসিটির জন্য ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে।
এই অভিযোগ বিশেষ করে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত একটি পোস্টের মাধ্যমে সামনে এসেছে, যেখানে জুলাই আন্দোলনে নিহত ফারহান ফাইয়াজের একজন সহপাঠী এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। ১৮ জুলাই ধানমন্ডিতে ফারহান ফাইয়াজ নামে ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের (ডিআরএমসি) একজন ছাত্র গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।
তার একজন সহপাঠী সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “ফারহান আমার সামনে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে। এখন তার নাম এবং তার বাবার দুঃখকে ডাকসুর মঞ্চে টেনে আনা দেখে মনে হচ্ছে তাকে আবার হারালাম। ফারহান কোনো রাজনৈতিক প্রতীক, ভোটের হাতিয়ার বা মঞ্চের সাজসজ্জা ছিল না।”
তিনি আরও বলেন, “তার বাবার শোককে ক্যামেরার সামনে প্রদর্শন করে সস্তা পাবলিসিটির জন্য ব্যবহার করা নিছক বীভৎস। এটি একটি স্মরণীয় ঘটনা যে, মনোযোগ পাওয়ার ক্ষুধায় এমনকি মৃতদের স্মৃতিও নিরাপদ নয়। ফারহান ডাকসুর ভোটের হাতিয়ার হওয়ার জন্য মারা যায়নি।”
বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এটি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীদের নিয়ে গঠিত। সংগঠনটির আহ্বায়ক আবু বাকের মজুমদার এবং সদস্য সচিব জাহিদ আহসান। যদিও তারা জাতীয় নাগরিক পার্টির ছাত্রসংগঠন হিসেবে পরিচিতি পেলেও, তারা এই সম্পর্ক অস্বীকার করে। তবে, সংগঠনটির কার্যক্রম নিয়ে ইতোমধ্যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। উদ্বোধনের দিনই নেতৃত্ব নির্বাচনে বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছিল, এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যাতে ১০ জন আহত হন।
বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের এই কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনা তীব্র হচ্ছে। অনেকে মনে করছেন, শহীদদের স্মৃতি ও তাদের পরিবারের শোককে সম্মান করার পরিবর্তে এটি রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে। এই ঘটনা দেশের ছাত্র রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।


