চট্টগ্রামের এনসিপির চাঁদাবাজ নেতা নিজাম ফের সাময়িক বহিষ্কার

চট্টগ্রামের এনসিপির চাঁদাবাজ নেতা নিজাম ফের সাময়িক বহিষ্কার
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

চাঁদাবাজির ঘটনা ফাঁস হওয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চট্টগ্রাম নগর শাখার যুগ্ম সমন্বয়কারী নিজাম উদ্দিনকে ফের সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।

দলের যুগ্ম সদস্য সচিব (দপ্তর) সালেহ উদ্দিন সিফাত স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এনসিপির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতে নিজাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে আর্থিক কেলেঙ্কারি ও গুরুতর দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় তাকে দলের সব ধরনের সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে কেন তাকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হবে না, সেই বিষয়েও আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দলের কেন্দ্রীয় শৃঙ্খলা কমিটির প্রধান অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল-আমিনের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

গত রোববার বন্দরে চলমান আন্দোলন বানচাল করে দেওয়ার আশ্বাসে ৫ লাখ চাঁদা আদায় এবং আরও ৫ লাখ টাকা আদায়ের জন্য চাপ প্রয়োগ নিয়ে নিজাম উদ্দিনের কথোপকথনের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে গত সোমবার নিজাম উদ্দিনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন নগর কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী (দপ্তর) আরিফ মঈনুদ্দিন।

দেড় মিনিটের ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, আফতাব হোসেন রিফাত নামের একজনের সঙ্গে মেসেঞ্জারে আলাপ করছেন নিজাম উদ্দিন। কথোপকথনে আফতাব জানান, তিনি ৫ লাখ টাকা দিয়েছেন। জবাবে নিজাম উদ্দিন তাকে আরও ৫ লাখ টাকা সংগ্রহের পরামর্শ দেন এবং আন্দোলন বন্ধের আশ্বাস দেন। আলোচনায় “মীর” ও “রোহান” নামের দুই বৈছা নেতাদের কথাও উঠে আসে।

অভিযোগ অস্বীকার করে নিজাম উদ্দিনবলেন, “৩০শে মে রাতে রিফাত ফোন দিলে আমি দুষ্টুমি করে কিছু কথা বলেছিলাম। সেটা ভিডিও করে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়েছে। আমি কোনো টাকা চাইনি। এটি আমার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংসের ষড়যন্ত্র।”

এর আগেও ২ কোটি টাকা চাঁদা না দেওয়ায় এক নারীর স্বামীকে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর অভিযোগ উঠেছিল তার বিরুদ্ধে। ৫ই জুলাই সেই অভিযোগে তাকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হলেও পরে পুনর্বহাল করা হয়।

এবারের বহিষ্কারের চিঠিতে বলা হয়েছে, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের মাধ্যমে একটি ভিডিও এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির নজরে এসেছে। সেখানে নিজাম উদ্দিনকে চট্টগ্রাম বন্দরকেন্দ্রিক আন্দোলন দমাতে টাকা চাইতে শোনা যায়। এতে তার বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ আনা হয় এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রধান সমন্বয়কারী মীর আরশাদুল হকের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না পাওয়ায় তাকে দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হলো।

Visited 14 times, 1 visit(s) today