বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড সমাপনে উল্লসিত ছিলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড সমাপনে উল্লসিত ছিলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার
শেয়ার করুন

বিডি ডাইজেস্ট ডেস্ক

১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এদিন ভোরে বিদেশি ইন্ধনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একদল সেনা সামরিক অভ্যুত্থান ঘটায়। এ হত্যাকাণ্ড সম্পন্ন করায় উল্লসিত হন সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ১৫ই আগস্ট ১৯৭৫ থেকে ৬ই নভেম্বর ১৯৭৫ পর্যন্ত খুনি খন্দকার মোশতাক আহমেদ অঘোষিতভাবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পদে আসীন হন। ওই সময়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন হেনরি কিসিঞ্জার। বঙ্গবন্ধু হত্যা ষড়যন্ত্রে বিদেশিদের মধ্যে তার নাম উল্লেখযোগ্যভাবে রয়েছে। তিনি একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভ ও পাকিস্তানের পরাজয়কে ব্যক্তিগত পরাজয় হিসেবে এবং বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব ও ঔদ্ধত্যকে ব্যক্তিগত শত্রুতা বলে উল্লেখ করেছিলেন।

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের ৫ দিনের মাথায় ২০শে আগস্ট খন্দকার মোশতাককে স্বীকৃতি দেয় যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিহিংসাপরায়ণ কিসিঞ্জার এতটাই উল্লসিত হন যে, তিনি বলেন- ‘মোশতাক সরকারকে স্বীকৃতি দিতে পেরে আমরা নিজেকে ধন্য মনে করছি।’ এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের প্রতিও সহানুভূতিও দেখান তিনি।

এক বার্তায় তিনি বলেন, ‘স্বীকৃতির মাধ্যমে বাংলাদেশের নতুন সরকারের কাছে বার্তা পৌঁছানো, যাতে তারা ভরসা পায় যে আমরা তাদের চাহিদার প্রতি সহানুভূতিশীল থাকব। তাদের স্বীকৃতি দেব।’

এ দিন সকাল ৮টায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার স্টাফ সভায় বসেন। এ সময় তিনি ঢাকার খবর জানার জন্য বৈঠকের শুরুতেই বলেন, ‘আমরা এখন বাংলাদেশ প্রসঙ্গে কথা বলব।’ সভায় বাংলাদেশের ঘটনাবলি সম্পর্কে নিকট প্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী আথারটন বলেন, ‘এটা হচ্ছে সুপরিকল্পিত ও নিখুঁতভাবে বাস্তবায়ন করা অভ্যুত্থান।’

তখন কিসিঞ্জার জানতে চান যে ‘মুজিব কি জীবিত না মৃত?’ আথারটন বলেন, ‘মুজিব মৃত। তার অনেক ঘনিষ্ঠসহ পরিবারের কজন সদস্য, ভাই, ভাগনে নিহত হয়েছেন।’ কিসিঞ্জার সভায় বসার আগেও এ ব্যাপারে আরও বিস্তারিত তথ্য নেন। পুরোটা সময় তাকে খুশিতে আত্মহারা মনে হয়েছিল এবং তিনি ঘন ঘন ‘পান’ করছিলেন।

কিসিঞ্জারের সাবেক স্টাফ অ্যাসিস্ট্যান্ট রজার মরিস এক সাক্ষাৎকারে বঙ্গবন্ধুর প্রতি কিসিঞ্জারের তীব্র ঘৃণার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘কিসিঞ্জারের বিদেশি শত্রুর তালিকায় ৩ জন সবচেয়ে ঘৃণিত ব্যক্তি হচ্ছেন- আলেন্দে, থিউ ও মুজিব।’

কিসিঞ্জারের সাবেক স্টাফ অ্যাসিস্ট্যান্ট বলেন, ‘মুজিব ক্ষমতায় আসেন সব কিছু উপেক্ষা করে। আমেরিকা ও তার অনুগ্রহভাজন পাকিস্তানকে সত্যিকারভাবে পরাজিত করে এবং মুজিবের বিজয় ছিল আমেরিকার শাসকবর্গের পক্ষে অত্যন্ত বিব্রতকর।’

সূত্র: দ্য আনফিনিশড রেভল্যুশন, লরেন্স লিফশুলজ, পৃষ্ঠা ১৩৭-১৩৮

Visited 17 times, 1 visit(s) today