নিজস্ব প্রতিবেদক
পূর্বাচল নিউ টাউন প্রকল্পে জমি বরাদ্দের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।
তিনি বলেছেন, এটি অবৈধ ইউনূস সরকারের রাজনৈতিক কূটচালের অংশ এবং সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন অভিযোগ।
এক বিবৃতিতে জয় বলেন, পূর্বাচল প্লট বরাদ্দ প্রক্রিয়ায় কোনও ধরনের অনিয়ম বা বিশেষ সুবিধা নেওয়া হয়নি। আবেদন থেকে অর্থ প্রদান পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ আইন মেনে সম্পন্ন হয়েছে এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যে প্লট কেনা হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমাদের কাউকেই বিনামূল্যে প্লট দেওয়া হয়নি।”
তিনি অভিযোগ করেন, তৎকালীন বিএনপি সরকারের ঘনিষ্ঠ আমলা ও দুদক চেয়ারম্যান আব্দুল মোমেনের নেতৃত্বাধীন কমিশন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই মামলা করেছে।
জয় বলেন, “দুদকের কাছ থেকে সুষ্ঠু ও ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রত্যাশা করাও বোকামি।”
সজীব ওয়াজেদ জয় তার বিবৃতিতে মনে করিয়ে দেন, দুর্নীতির অভিযোগের জন্য আওয়ামী লীগ সরকার দুদকের বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল মোমেনকে বরখাস্ত করেছিল। দুদকে তার নিয়োগের একমাত্র যোগ্যতা বিএনপিপন্থি আমলা হিসেবে পরিচিতি, তিনি খালেদা জিয়ার একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
এ কারণে, দুদকের কাছ থেকে সুষ্ঠু ও ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রত্যাশা করাও বোকামি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তার মতে, মামলাগুলো আদালতে টিকে আছে কেবল ইউনূস সরকারের বিচার বিভাগের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ, বিএনপি ও জামায়াতপন্থি আইনজীবীদের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং সহিংস পরিবেশের কারণে।
জয় বলেন, আদালতের উচিত ছিল প্রথমে এই তথাকথিত মামলাগুলো বাতিল করা। তবে, ইউনূস সরকারের বিচার বিভাগের উপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ, বিচারিক বিষয়ে বিএনপি-জামায়াতপন্থি আইনজীবীদের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, পাবলিক প্রসিকিউটরদের বিএনপি-জামায়াত নেতাদের মতো আচরণ এবং হিংস্র মবের কারণে আদালত এখন এই ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগ গ্রহণই শুধু করছে না, বরং ইচ্ছামত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করছে, আমাদের সম্পত্তি জব্দের আদেশ দিচ্ছে এবং এই ভিত্তিহীন মামলাগুলিকে বিচারের পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করেন, আসামিদের জন্য রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীরাও পর্যাপ্ত সুরক্ষা পাচ্ছেন না।
বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতার ওপর আস্থা রাখতে না পারায় তারা আদালতে লড়াইয়ে অংশ নিচ্ছেন না বলে জানান জয়।
বঙ্গবন্ধু দৌহিত্র জয় বলেন, আওয়ামী লীগের লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মী ও সমর্থক শত শত মিথ্যা ফৌজদারি মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং জামিন ছাড়াই মাসের পর মাস কারাগারে আটক রয়েছেন। কেউ জামিন পেলে বিচার-পূর্ব আটকাদেশ আরও দীর্ঘায়িত করতে তাদের অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। আইনজীবী এবং আসামীদের উপর আদালত প্রাঙ্গনে হামলা করা হচ্ছে।
