স্থানীয় সংবাদদাতা
বরিশালে স্বাস্থ্যখাত সংস্কারের আন্দোলনে অংশ নেওয়া দুই শিক্ষার্থী গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে আন্দোলনের অন্যতম নেতা মহিউদ্দিন রনি ওরফে কেটলি রনিসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। মূলত সিনিয়রের সামনে সিগারেট ধরানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বের সূত্রপাত বলে জানান আন্দোলনকারীরা।
শনিবার রাত ১০টার দিকে বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ ক্যাম্পাসে এই সংঘর্ষ হয়। আহতদের মধ্যে গুরুতর পাঁচজনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান, রাফি, সিফাত ও সুহানের নাম জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নথুল্লাবাদ এলাকায় আন্দোলনের ১৪তম দিনে সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্ব ও ধূমপান নিয়ে বিকেলে প্রথম দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন, যার মধ্যে কেটলি রনিও ছিলেন। সংঘর্ষে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের (বৈছা) নারী নেত্রীরাও জড়িত ছিলেন বলে জানা গেছে।
পরে রাতে আন্দোলনের ক্ষতি ঠেকাতে বিএম কলেজ ক্যাম্পাসে সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে বৈঠকের মধ্যেই হাতাহাতি থেকে ফের সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুই পক্ষ। এতে উভয় পক্ষের আরও কয়েকজন আহত হন।
এ ঘটনার পর দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়ে। সেনা সদস্যরা লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে এ নিয়ে ক্ষোভ রয়ে যায়।
চা বিক্রি করে ওমরা হজ করে আসা মহিউদ্দিন রনি ওরফে কেটলি রনির অভিযোগ, চলমান আন্দোলন ভেঙে দেওয়ার উদ্দেশ্যে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
আহত বৈছা কর্মীদের কয়েকজন জানান, এর পেছনে দায়ী মহিউদ্দিন রনি।
আরিফ হোসেন নামে বিএম কলেজের এক শিক্ষার্থী বলেন, কেটলি রনি এখানে গন্ডগোল লাগিয়েছে। সে সিনিয়রিটি-জুনিয়রিটি নিয়ে উস্কানিমূলক কথাবার্তা বলেছে। এক সংস্কার কর্মীর সিগারেট খাওয়ার মত তুচ্ছ ঘটনাকে টেনে লম্বা করেছে কেটলি রনি।
বৈছার বরিশাল জেলার সাবেক আহ্বায়ক সাব্বির হোসেন বলেন, “নথুল্লাবাদের মারামারির জেরেই বিএম কলেজে সংঘর্ষ হয়েছে। মূলত সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্ব থেকেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি।”
শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মশিউল মুনীর জানান, আহতদের মধ্যে আশঙ্কাজনক কেউ নেই।
কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, ঘটনাটি কলেজ ক্যাম্পাসের ভেতরে ঘটেছে, যেখানে পুলিশের প্রবেশের অনুমতি নেই। তবে হাসপাতাল ও ক্যাম্পাস এলাকায় খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
