স্পোর্টস ডেস্ক
মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের নতুন কিউরেটর হিসেবে যোগ দিয়েই অদ্ভুত এক দৃশ্যের মুখোমুখি হলেন অস্ট্রেলিয়ান বিশেষজ্ঞ টনি হেমিং। পিচ পরিদর্শনের সময় তার চোখে পড়ে উইকেটের পাশেই পুঁইশাক ও ঢেঁড়শের বাগান। বিস্মিত হেমিং মজা করে মাঠকর্মীদের জিজ্ঞেস করেন, “এই বিশেষ শাক কে খায়?” পরে খানিক শ্লেষের সুরে জানতে চান, “পৃথিবীর আর কোনো স্টেডিয়ামে কি পিচের পাশে সবজির বাগান আছে?” প্রশ্ন শুনে উপস্থিতরা নীরব হয়ে যান।
দুই বছরের চুক্তিতে হেমিংয়ের দায়িত্ব দেশের সব জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ভেন্যুর উইকেট স্পোর্টিং করে তোলা, আন্তর্জাতিক মানের কিউরেটর তৈরি এবং মাঠকর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া। প্রথম কাজ হিসেবে তিনি মিরপুরের উইকেটের দীর্ঘদিনের ‘স্লো’ সমস্যা সমাধানে মনোযোগ দেবেন।
স্টেডিয়ামের একাডেমি মাঠের উত্তর পাশে ও ইনডোরের আউটফিল্ডে সবজির বাগান তৈরি করেন মাঠকর্মীরা। আগের কিউরেটর শ্রীলঙ্কান গামিনি ডি সিলভা এসব দেখেও উপেক্ষা করতেন। তার কিউরেটর জীবন নিয়েও নানা বিতর্কে ঘেরা—আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, রাস্তা থেকে ভাসমান পতিতা বাড়িতে নেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ এবং মাঠ প্রস্তুতিতে একাধিক ভুলের কারণে তিনি সমালোচিত হয়েছেন।
বিশেষ করে একাডেমি মাঠের গ্রিন শেডে পিচ উল্টোভাবে বানানোর ভুলে বর্ষা মৌসুমে সেই উইকেট ব্যবহারই সম্ভব হয়নি, ফলে অনুশীলন হয়েছে খোলা মাঠে। এ ঘটনায় তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়।
সম্প্রতি পাকিস্তানের বিপক্ষে টি২০ সিরিজে মিরপুরের উইকেট নিয়েও সমালোচনা ওঠে। এরপর বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল তাকে মিরপুর থেকে সরানোর ঘোষণা দেন এবং গ্রাউন্ডস কমিটির চেয়ারম্যান মাহাবুবুল আনামের উদ্যোগে টনি হেমিংকে ফেরানো হয়।
হেমিং আইসিসি একাডেমি মাঠের উইকেট তৈরির অভিজ্ঞতা এবং অস্ট্রেলিয়ার পার্থসহ বিভিন্ন ভেন্যুতে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।
তবে গামিনিকে আপাতত চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে না। তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করলে ঢাকার বাইরে অন্য ভেন্যুতে দায়িত্ব পালন করবেন। যদিও গুঞ্জন ছিল শ্রীলঙ্কায় ফিরে তিনি পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন, বিসিবি জানিয়েছে—এমন কোনো পদত্যাগপত্র এখনো আসেনি।
