নিজস্ব প্রতিবেদক
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে রাজনৈতিক নেতাদের ‘অপমান’ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় পার্টি (জাপা) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, “অনেকভাবে আমাদের অপমান করা হয়েছে, এই জাতিকে অপমান করা হয়েছে। কিন্তু, এবার যেভাবে অপমান করছে, এটি ইতিহাসে লেখা থাকবে।”
৯ই আগস্ট, শনিবার বিকেলে রাজধানীর ইমানুয়েল কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত জাতীয় পার্টির দশম জাতীয় সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
বর্ষীয়ান এ রাজনৈতিক নেতা বলেন, এখন রাজনীতি কোথায় আছে, আল্লাহ তাআলা ছাড়া কেউ জানে না। ১৮-২০ বছর বয়সে বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকে রাজনীতি শুরু করেছি। পাকিস্তানের অন্যায়, শোষণ, অবজ্ঞার বিরুদ্ধে আমরা আন্দোলন করেছি, স্বাধিকারের জন্য লড়েছি। সেই আন্দোলন একসময় স্বাধীনতার রূপ নেয়। কিন্তু আজ যে বাংলাদেশ গড়েছি, সেটিকে নিয়ে আবার এক নতুন ধরনের ‘বিপ্লব’ চলছে।
মঞ্জু বলেন, সংস্কারের নামে যা চলছে, সেটা রাজনীতির মূলধারাকে আরও অনিশ্চিত করছে। এরশাদের আমলেও সংস্কার হয়েছিল—স্বাস্থ্যনীতি, শিক্ষানীতি, উপজেলা ব্যবস্থা—এসব ছিল সেই সময়ের সংস্কারের অংশ। কিন্তু আজকের সংস্কার যেন মূল রাজনীতিকেই অচল করে দিচ্ছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের কাঠামো নিয়ে তিনি বলেন, আমাদের দুঃখ লাগে, এই দেশে যারা রাজনীতি করেছে, মানুষের সঙ্গে সংগ্রাম করেছে, আন্দোলন করেছে, তাদের বাদ দিয়ে এখন দেশ কারা চালাচ্ছে? নন-গভর্নমেন্ট। গভর্নমেন্ট চালাচ্ছে কারা? নন-গভর্নমেন্ট। তাহলে তো চলার কথা না। প্রথমে বলেছে, আমি চালাচ্ছি না। উপদেশ দিচ্ছে কারা—যারা এই দেশে বসবাস করতেন না।
তার অভিযোগ, আমেরিকা, লন্ডন, জাপান থেকে লোক এনে বই লেখাচ্ছে, সংস্কারের নকশা আঁকাচ্ছে। কিন্তু সেগুলো বাস্তবায়ন করবে কে? যারা মাঠে কাজ করেছেন, তাদেরই তো সরিয়ে রাখা হচ্ছে।
দেশে নির্বাচন আদৌ হবে কি না, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন জাপা চেয়ারম্যান।
তিনি বলেন, সংস্কার কোন পর্যায়ে পৌঁছবে—সে নিশ্চয়তা নেই। দেশে একটা নির্বাচন হবে কি হবে না, করতে দেবে কি দেবে না—এই দোদুল্যমান অবস্থার মধ্যে আমরা বাস করছি।
তিনি ব্যঙ্গ করে আরও বলেন, নির্বাচনের দরকার কী? তোমরা দুটো দল আছ—আসন ভাগাভাগি করে নাও, মন্ত্রিত্ব ভাগাভাগি করে নাও। মাঝখান থেকে পাঁচ হাজার কোটি টাকা খরচ করে নির্বাচন করার কী দরকার?
মঞ্জুর অভিযোগ, মৌলিক অধিকার ও বাকস্বাধীনতা এখন আর আলোচনার বিষয় নয়। “আন্দোলনটা ছিল মানুষের মৌলিক অধিকারের জন্য। কিন্তু আজ মৌলিক অধিকার, বাকস্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতার কথা কেউ বলে না। সংবাদপত্রে পড়লাম, দখলের রাজনীতি হচ্ছে। ব্যবসা দখল হচ্ছে, দোকান দখল হচ্ছে, চাঁদা নেওয়া হচ্ছে—সবকিছু নিয়মকানুনের বাইরে”, বলেন তিনি।
এই সম্মেলনে জাতীয় পার্টির ভিন্ন ভিন্ন অংশের নেতাদের উপস্থিতি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিয়েছে।
এর আগে, ৭ই জুলাই জি এম কাদের দলের সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার ও মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নুসহ ১০ জনকে অব্যাহতি দেন। পরে আদালতের নিষেধাজ্ঞায় জি এম কাদের সাংগঠনিক কার্যক্রমে সাময়িক বিরত হন।
এর সুযোগে দলের অন্য অংশ ৫ই আগস্ট আনিসুল ইসলাম মাহমুদকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ঘোষণা করে বহিষ্কৃত নেতাদের পুনর্বহাল করে। শনিবারের সম্মেলনে এই অংশের নেতৃত্ব আরও শক্ত হয় এবং জাতীয় পার্টির বিভিন্ন উপদল একই মঞ্চে এসে দাঁড়ায়।
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন নবনিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। বক্তব্য দেন জাপা মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম, জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার, রওশনপন্থি নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশিদ, সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান আবু হোসেন বাবলা, জাতীয় মহিলা পার্টির সভাপতি নাজমা আক্তার প্রমুখ।
