রাবিতে আওয়ামী লীগের পতন উদযাপনের গণভোজ খেয়ে দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীর পেট খারাপ!

রাবিতে আওয়ামী লীগের পতন উদযাপনের গণভোজ খেয়ে দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীর পেট খারাপ!
শেয়ার করুন

পেট খারাপ শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই বিজয়-২৪ হলের

রাবি প্রতিনিধি

জুলাই-আগস্টে জঙ্গি হামলার মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটানোর আনন্দে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ‘বিজয় ফিস্ট’ নাম গণভোজের খাবার খেয়ে বিভিন্ন হলের প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে।

বমি, ডায়রিয়া, খিঁচুনিসহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেওয়ায় বুধবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের ভিড় দেখা যায়। অনেকেই শহরের বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলেও জানা গেছে।

রাবির চিকিৎসা কেন্দ্রের প্রধান মাফরুহা সিদ্দিকা লিপি বলেন, “সাধারণত প্রতিদিন গড়ে তিনশ’র মতো শিক্ষার্থী চিকিৎসা নেন। কিন্তু বুধবার শুধু সকালের শিফটেই চার থেকে পাঁচশ শতাধিক শিক্ষার্থী এসেছেন; যাদের বেশিরভাগেরই পেটের সমস্যার কথা বলেছেন।”

লিপি বলেন, চিকিৎসা নিতে আসা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জানতে পেরেছি মঙ্গলবার রাতে বিজয় ফিস্টের খাবার খাওয়ার পর থেকেই তারা অসুস্থ হতে শুরু করেন। পেট খারাপ, বমিসহ বিভিন্ন উপসর্গে মনে হয়েছে তাদের ফুড পয়জনিং হয়েছে সামহাউ।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র বলছে, বিভিন্ন আবাসিক হলগুলোতে শিক্ষার্থীরা খাবার খেয়ে অসুস্থ হলেও অধিকাংশই বিজয়-২৪ হলের। জুলাই আন্দোলনের স্মরণে হলের পূ্র্বেকার নাম বদলে বিজয়-২৪ হল রাখা হয়েছিল।

এই হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ মাহমুদ বলেন, বিজয় ফিস্টের খাবারের অর্ধেক খাওয়ার পরই শরীরে অস্বস্তি লাগছিল। পরে পেট ব্যথা শুরু হয়, টয়লেটে যেতে-আসতে আসতে নেতিয়ে পড়েছি। আমার অনেক বন্ধুরও একই অবস্থা হয়েছে। টয়লেটের সামনে লম্বা লাইন পড়েছে।

একই হলেরর আরেক শিক্ষার্থী ইকবাল হোসেন বলেন, খাবার খাওয়ার পর হলের অধিকাংশ ছেলেই অসুস্থ হয়ে পড়ে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে কারো কুনজর পড়েছে আমাদের ওপর।

আওয়ামী লীগের পতন উৎসব নিয়ে যে গণভোজের আয়োজন করা হয়েছে, সেজন্য হলগুলোতে দেওয়া খাবার বাসি ও নিম্নমানের ছিল বলে জানান শিক্ষার্থীদের। অনেকেই প্যাকেটের মধ্যে চুল ও পোকা পেয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। এমন ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

জিয়াউর রহমান হলের শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান বলেন, ক্যান্টিনের খাবারের মানও এর চেয়ে অনেক ভালো। এই খাবার এতটাই খারাপ ছিল যে, দেখেই বমি পেয়েছে, তাই ফেলে দিতে হয়েছে।

শহিদ শামসুজ্জোহা হলের শিক্ষার্থী ইব্রাহিম খলিল বলেন, পুরাই ফকিন্নি মার্কা খাবার দিয়েছে। অথচ এজন্য অনেক টাকা ডোনেশন উঠেছিল বলে জেনিছি আমরা। রোস্টের সাইজ ছিল চড়ুই পাখির মাংসের চেয়েও ছোট; চালটাও ভালোভাবে সিদ্ধ হয়নি। জনপ্রতি বাজেট ছিল ১৫০ টাকা, অথচ খরচ হয়েছে বড়জোর ৭০ টাকা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিজয়-২৪ হলের প্রাধ্যক্ষ এবং প্রাধ্যক্ষ পরিষদের আহ্বায়ক জামিরুল ইসলাম বলেন, কী কারণে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়েছে, তা বোঝার চেষ্টা করছি।

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীব বলেন, পেট খারাপ শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আপনারা ওদের জন্য দোয়া করেন। আল্লাহ দিলে ঠিক হয়ে যাবে।

Visited 8 times, 1 visit(s) today