নিজস্ব প্রতিবেদক
সরকারি চাকরিজীবীরা এখন আর তাদের যৌক্তিক বা বৈধ দাবি উত্থাপন করতে পারবেন না- এমন প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা সরকারি চাকরি (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫-এর মাধ্যমে এখন আর বৈধ আন্দোলনও করতে পারবেন না সরকারি চাকুরিজীবীরা।
বুধবার আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব হাফিজ আহমেদ চৌধুরীর স্বাক্ষরে এই অধ্যাদেশ জারি করা হয়।
এতে বলা হয়েছে, কোনো সরকারি কর্মচারী যদি অন্যকে কাজ না করতে উৎসাহ দেন বা বাধ্য করেন, তাহলে তাকে অসদাচরণের দায়ে বাধ্যতামূলক অবসর কিংবা চাকরিচ্যুতির মতো শাস্তি দেওয়া যাবে।
যদিও অধ্যাদেশে ‘আন্দোলন’ শব্দটি সরাসরি ব্যবহার করা হয়নি, তবে আইনজীবীদের ব্যাখ্যায় এটি স্পষ্ট যে— আন্দোলন বলতে সাধারণত কর্মবিরতি, বিক্ষোভ, দাবিদাওয়া আদায়ের লক্ষ্যে সমবেত হওয়া বোঝায়, এবং এই আইন সেই কর্মকাণ্ডকেই নিষিদ্ধ করেছে।
অধ্যাদেশের ৩৭ ধারা (গ)-এ বলা হয়েছে, কোনো সরকারি কর্মচারী যদি অন্যকে কর্তব্য পালনে বাধা দেন, তাহলে তা ‘সরকারি কর্মে বিঘ্ন সৃষ্টি’র শামিল হবে। এমন অপরাধের জন্য উপ-ধারা (২) অনুযায়ী তিন ধরনের শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে: (ক) পদাবনতি বা বেতন গ্রেড কমানো, (খ) বাধ্যতামূলক অবসর এবং (গ) চাকরিচ্যুতি।
এর ফলে সরকারি কর্মচারীদের যেকোন দাবি-দাওয়া, সংগঠিত আন্দোলন—সেটা যতটা ন্যায্য বা সাংবিধানিক অধিকারভিত্তিকই হোক না কেন—আবশ্যিকভাবে দমনযোগ্য হয়ে পড়বে। তাদের সাংবিধানিক অধিকারও খর্ব করবে। এমনটাই বলছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই নতুন আইনের মাধ্যমে কার্যত সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সাংগঠনিক অধিকার ও ন্যায্য দাবি-দাওয়ার পথটিও রুদ্ধ হলো বলে মত দিয়েছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
