নিজস্ব প্রতিবেদক
গোপালগঞ্জে প্রবেশের আগেই থেমে গেছে এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহর গাড়িবহর। পথে বাধা পেয়ে তিনি গাড়ি থেকে নেমে পুলিশের সঙ্গে কথা বলেন এবং পরিস্থিতি মোকাবেলায় তাদের সহায়তা চান।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত একাধিক সূত্র জানায়, গোপালগঞ্জ শহরের প্রবেশপথে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা ছিল। এই অবস্থায় হাসনাত আবদুল্লাহর নেতৃত্বাধীন বহরটি থেমে যায়। তখন তিনি নিজেই গাড়ি থেকে নেমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেন।
এ সময় শহরে উত্তেজনা আরও বাড়ে। এনসিপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচি ‘জুলাই পদযাত্রা’ উপলক্ষে গোপালগঞ্জের পৌর পার্কে জনসমাবেশে যোগ দেওয়ার কথা ছিল হাসনাতের। এর আগেই পুলিশ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষদের গ্রেপ্তার শুরু করে।
বুধবার সকালে সদর উপজেলার উলপুর এলাকায় আওয়ামী লীগের মিছিলে পুলিশ গুলি ছোড়ে বলে অভিযোগ ওঠে। এতে পাল্টা ক্ষিপ্ত হয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর ও আগুন দেয়। পাশাপাশি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এম রকিবুল হাসানের গাড়িও হামলার শিকার হয়। তিনি নিজেই ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।
গোপীনাথপুর পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক (আইসি) আহমেদ বিশ্বাস, কনস্টেবল কাওছার ও মিনহাজ আহত হয়ে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন।
গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, কারা এই হামলা চালিয়েছে তা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে পুলিশের তিন সদস্য আহত হয়েছেন এবং একটি গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
এনসিপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তাদের শান্তিপূর্ণ পদযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতেই ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে এসব ঘটনা ঘটিয়েছে।
ঘটনাস্থলে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এনসিপির নেতা-কর্মীরা স্লোগান দিয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। যৌথবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আলোচনা চলমান রয়েছে এবং গাড়িবহর আবার চালু হবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
