- আতঙ্কে মহানগর যুবদল-ছাত্রদল নেতারা
- চাঁদাবাজি ঠেকাতে এলাকাভিত্তিক বিএনপি নেতাদের তালিকা তৈরি শুরু
বিশেষ প্রতিবেদক
স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালে ব্যবসায়ী মো. সোহাগ হত্যা মামলার পর রাজধানীজুড়ে শুরু হওয়া পুলিশের ‘চিরুনি অভিযান’ এখন বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীদের ঘিরে ঘনীভূত হয়ে উঠেছে। পুরান ঢাকায় সংঘটিত নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। সে সূত্র ধরেই অভিযান চলছে বিভিন্ন এলাকায়। ঢাকা মহানগর পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা এবং গোয়েন্দা সূত্রের মাধ্যমে এ তথ্য জানা গেছে।
এদিকে একাধিক থানায় অভিযান, নজরদারি ও গ্রেপ্তারের খবরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে মহানগর যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে। তাদের, খুনিদের বিচারের পরিবর্তে পুরো বিএনপিকে টার্গেট করে একটি রাজনৈতিক নিধন-প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বর্তমান সরকার।
জানা যায়,সদ্য ঘটে যাওয়া সোহাগ হত্যাকাণ্ডে আলোচনায় আসে স্থানীয় যুব নেতা মাহমুদুল হাসান মহিন ও তার সহযোগী অপু। দুজনই যুবদল-ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। হত্যার পরপরই তারা মিছিল করে ঘটনাকে মব হত্যাকাণ্ড হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এই নাটকীয়তার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হলে নতুন করে ক্ষোভের জন্ম নেয়।
পুলিশ সূত্র বলছে, ঘটনার পর খুনিদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও এলাকায় তাদের দখলদারিত্বের ইতিহাস খতিয়ে দেখে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।
তদন্তে উঠে আসে, এসব এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি ঘনিষ্ঠ কিছু সিন্ডিকেট চাঁদাবাজি, অবৈধ দখল ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে আসছিল। ফলে মিটফোর্ডকে কেন্দ্র করে পুলিশের চিরুনি অভিযান এখন আরও বিস্তৃত এবং টার্গেটেড।
ঢাকা মহানগর পুলিশের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, পুলিশ প্রতিটি এলাকায় রাজনৈতিক পরিচয়ধারী এমন ব্যক্তিদের তালিকা করছে, যারা নানা অপরাধে জড়িত ছিলেন কিন্তু রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় রক্ষা পেয়েছেন। বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে- মিটফোর্ড, চকবাজার, লালবাগ, কামরাঙ্গীরচর, গেন্ডারিয়া, আজিমপুর, বংশাল, ইসলামবাগ, ধূপখোলা, শহীদ নগর, দয়াগঞ্জ ইত্যাদি এলাকায়।
পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এইসব এলাকায় রাজনৈতিক পরিচয়ে যারা দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করেছেন, তারা পুলিশের নজরদারির মধ্যে। কোনো নিরীহ নেতাকর্মী যাতে হয়রানির শিকার না হন, সেটাও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।
ঢাকা দক্ষিণ ছাত্রদলের এক সাবেক সহসভাপতি বলেন, এই মুহূর্তে পুরান ঢাকায় কেউ মিটিং বা জমায়েত করতে সাহস করছে না। অনেকেই আত্মগোপনে চলে গেছেন। এমনকি যেসব নেতা আগেও নিষ্ক্রিয় ছিলেন, তারাও এখন টার্গেট হচ্ছেন।
অভিযোগ রয়েছে, যেসব এলাকায় বিএনপি রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী ছিল বা মাঠ দখলে রেখেছিল, সেসব এলাকায় এখন ক্ষমতাসীন সরকারের প্রশ্রয়ে চলা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা পুনঃদখলের সুযোগ হিসেবে এই অভিযানকে ব্যবহার করছে।
স্থানীয় এক বিএনপি নেতা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে এনসিপির নেতাদের চাঁদাবাজি আর অপকর্মের ফিরিস্তিতে ভরপুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। কিন্তু কোনো অদ্ভূত কারণে বিএনপিকে লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছে।
এদিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মিটফোর্ড হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিরা যেই হোক, আইনের আওতায় আনা হবে। রাজনৈতিক পরিচয় তদন্তকে প্রভাবিত করবে না।
তবে চিরুনি অভিযানের ব্যাখ্যায় পুলিশ বলছে, “যে কেউ যদি চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব বা সহিংসতায় যুক্ত থাকেন, তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে। দল নয়, অপরাধই হচ্ছে আমাদের মূল বিবেচ্য বিষয়।”
