চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যদের ওপর পুলিশি লাঠিচার্জ-জলকামান: জুলাই-সাথী ছাত্র সমন্বয়করা কেউ নেই পাশে

চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যদের ওপর পুলিশি লাঠিচার্জ-জলকামান: জুলাই-সাথী ছাত্র সমন্বয়করা কেউ নেই পাশে
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর কাকরাইল মসজিদ মোড়ে চাকরিতে পুনর্বহালসহ তিন দফা দাবিতে অবস্থান নেওয়া চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যদের ওপর পুলিশ জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেড ও লাঠিচার্জ করেছে।

আজ ৭ই জুলাই, সোমবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা-সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে পুলিশ সদস্যসহ বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী আহত হয়েছেন এবং কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।

সকালে শাহবাগ মোড় থেকে মিছিল নিয়ে কাকরাইলের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় পুলিশের বাধার মুখে পড়েন আন্দোলনকারীরা। পুলিশ তাদের সরে যাওয়ার জন্য ১০ মিনিটের আল্টিমেটাম দিলেও তারা অবস্থানে অনড় থাকেন। ফলে পুলিশ জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে। পরে আন্দোলনকারীরা কাকরাইল থেকে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে সরে গিয়ে অবস্থান নেন।

চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— চাকরিতে পুনর্বহাল ও ক্ষতিপূরণ, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন এবং কারাবন্দি নিরপরাধ সদস্যদের মুক্তি, এবং ‘বাংলাদেশ রাইফেলস’ নাম পুনঃস্থাপন।

এই আন্দোলনের পটভূমিতে উল্লেখযোগ্য, চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যদের জুলাই ২০২৪-এর আন্দোলনে পরিকল্পিতভাবে সম্পৃক্ত করা হয়েছিল, অন্যান্য অনেক গ্রুপের মতো। আন্দোলনের ছাত্র সমন্বয়কারীরা তখন তাদের চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমানে সমন্বয়কারীরা নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ পূরণে ব্যস্ত থাকায় এই প্রতিশ্রুতি অধরা রয়ে গেছে।

কেউ নেই এখন আর বিডিআর সদস্যদের পাশে। বরং নিজেদের দাবি নিয়ে মাঠে নেমে উল্টো সরকারের রোষানলের মুখে পড়েছেন তারা।

বিডিআর কল্যাণ পরিষদের সভাপতি মো. ফয়জুল আলম বলেন, আমাদের আন্দোলন অযৌক্তিক নয়। পুলিশের এমন হামলার কোনো যৌক্তিকতা নেই। আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকারের জন্য লড়াই চালিয়ে যাব।

তিনি দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।

এদিকে, পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মাসুদ আলম জানান, আন্দোলনকারীরা পুলিশের ওপর ঢিল ছুড়েছে, যার ফলে পুলিশ সদস্যরাও আহত হয়েছেন। তিনি নিজেও সামান্য আহত হয়েছেন বলে জানান।

কাকরাইল মোড়ে বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আন্দোলনকারীরা শহিদ মিনারে অবস্থান অব্যাহত রেখেছেন, তবে পরবর্তী কর্মসূচি সম্পর্কে এখনও কোনো ঘোষণা দেননি।

Visited 8 times, 1 visit(s) today