নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ জুলাই ২০২৫, ঢাকাঃ বাংলাদেশে চলমান মানবাধিকার সংকটের মধ্যে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। কানাডার গ্লোবাল সেন্টার ফর ডেমোক্র্যাটিক গভর্নেন্স (GCDG) কর্তৃক প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ১৯ জুন পর্যন্ত বাংলাদেশে অন্তত ৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়ে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সরকারী নিপীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে এই হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটছে। যদিও এসব হত্যাকাণ্ডের সঠিক সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে, তবে সরকারের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে অনেক খবর প্রকাশ পায়নি। এতে আন্তর্জাতিক দৃষ্টিতে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরো সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্যে উল্লেখিত নিহতদের মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, শ্রমিক, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ জনগণ অন্তর্ভুক্ত। তাদের নাম, পরিচয় ও ঠিকানা নীচে দেওয়া হলো:
১. এলাহী সিকদার (২৫), পিতাঃ মহী সিকদার, বাসস্থানঃ ফালসি, নিজামকান্দি, কাশিয়ানী, গোপালগঞ্জ – নেতা, নিজামকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ
২. সৈয়দুল করিম (৫৫), পিতাঃ নুরুল কবির, বাসস্থানঃ কক্সবাজার – আওয়ামীলীগের তৃনমুল কর্মি
৩. শফিকুল ইসলাম (৪৫), পিতাঃ মৃত মালেক উদ্দিন, বাসস্থানঃ গোবিন্দি, সাঘাটা, গাইবান্ধা – নেতা, সাঘাটা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ
৪. সহরাব হোসেন অপেল (৩৫), পিতাঃ মৃত রুস্তম আলী, বাসস্থানঃ গোবিন্দি, সাঘাটা, গাইবান্ধা – অ্যাকটিভিস্ট, সাঘাটা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ
৫. সৈদুল ইসলাম (৪০), পিতাঃ আবদুস সালাম, বাসস্থানঃ গোলপুকুরপার, ময়মনসিংহ সদর, ময়মনসিংহ – যুবলীগ নেতা
৬. কাউসার হোসেন খান (২৭), পিতাঃ মোঃ নেসার উদ্দিন, বাসস্থানঃ মাঝরতনপুর, বিদ্যানন্দপুর, মেহেন্দিগঞ্জ, বরিশাল – গার্মেন্ট কর্মী, মঙ্গো টেক্স লিমিটেড
৭. আলিমুজ্জামান চৌধুরী (৫৮), পিতাঃ বাকামিয়া চৌধুরী, বাসস্থানঃ ঘোনাপাড়া, গোপালগঞ্জ সদর, গোপালগঞ্জ – মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম কল্যাণ পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি
৮. চাম্পা খাতুন (২৫), পিতাঃ চন্দু মিয়া, বাসস্থানঃ আহম্মদপুর, পীরগঞ্জ, রংপুর – গার্মেন্ট কর্মী
৯. মোঃ শরীফ (৩২), বাসস্থানঃ বদল কাজীর বাড়ি, আজিমপুর, সন্দ্বীপ, চট্টগ্রাম – নেতা, আজিমপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দল
১০. শাহিদুল ইসলাম রতন (৫৮), পিতাঃ মৃত কালিম উদ্দিন, বাসস্থানঃ দক্ষিণ গোদারপাড়া, বগুড়া – ওয়ার্ড ১৫ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক
এছাড়া আরো ৩৭ জনের নাম ও পরিচয় তালিকাভুক্ত রয়েছে, যাদের মধ্যে বিভিন্ন বয়সী রাজনৈতিক কর্মী, ছাত্র, শ্রমিক, এবং সাধারণ মানুষ অন্তর্ভুক্ত।
মূল প্রতিবেদনঃ EXTRAJUDICIAL KILLINGS
এই হত্যাকাণ্ডগুলো শুধু দেশের আইনগত অবস্থা নয়, বরং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তুলছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো সরকারের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে এবং এই হত্যার সাথে জড়িতদের শাস্তির দাবি করেছে।
সরকার গণমাধ্যমের ওপর প্রায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করায়, এই ধরনের অনেক হত্যাকাণ্ড সঠিকভাবে প্রতিবেদন হয়নি বা পুরোপুরি অপ্রকাশিত থেকেছে। সাংবাদিকরা যদি এমন ঘটনা তদন্ত করতে বা প্রকাশ করতে সাহস করেন, তবে তারা গুরুতর পরিণতির সম্মুখীন হন: গ্রেপ্তার, চাকরি হারানো, প্রেস অ্যাক্রেডিটেশন বাতিল করা, এবং নিউজরুমে সহিংস হামলা। কিছু প্রতিবেদন পরবর্তীতে চাপের মুখে মুছে ফেলা হয়, যেখানে সত্যকে মুছে ফেলা হয় এবং এটি সন্ত্রাসের মাধ্যমে চাপের সৃষ্টি করা হয়।
যেহেতু এই প্রশাসন কখনো জনমানুষের ভোটে নির্বাচিত হয়নি, এটি জনগণের প্রতি কোনো দায়বদ্ধতা ছাড়াই কাজ করছে। ফলে এসব গুরুতর অভিযোগ উপেক্ষিত বা সম্পূর্ণভাবে খারিজ করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিটি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড অবশ্যই নিরপেক্ষ তদন্তের অধীনে হওয়া উচিত। যারা এর জন্য দায়ী, তারা যে কোনো পদমর্যাদা বা অবস্থানে থাকুক না কেন, তাদের বিচার করা উচিত। বিচারহীনতার সংস্কৃতি শেষ হওয়া উচিত। আমরা জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর কাছে জরুরি আহ্বান জানাচ্ছি, যেন তারা স্বাধীন তদন্ত শুরু করে এবং অপরাধীদের জবাবদিহি করে। নীরবতা অন্যায়কে বাড়তে সহয়তা করে, এখন সময় এসেছে মুখ খোলার।
এই প্রতিবেদনটি মানবাধিকার এবং গণতন্ত্রের ভিত্তিতে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তীব্র সংকট তুলে ধরেছে, যার ফলে বাংলাদেশের গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
কারা হেফাজতে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের অস্বাভাবিক মৃত্যুর বিভিন্ন তথ্য এখানে
