বাংলাদেশের সাংবাদিক নির্যাতন ও বাকস্বাধীনতা হরণের প্রতিবাদে ৮৮ জন বিশিষ্ট ব্যাক্তির নিন্দা

বাংলাদেশের সাংবাদিক নির্যাতন ও বাকস্বাধীনতা হরণের প্রতিবাদে ৮৮ জন বিশিষ্ট ব্যাক্তির নিন্দা
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

২ জুলাই ২০২৫, ঢাকাঃ বিদেশে বসবাসরত ৮৮ জন বিশিষ্ট সাংবাদিক, লেখক, মানবাধিকার কর্মী, সংস্কৃতিকর্মী ও গবেষক এক যুক্ত বিবৃতিতে বাংলাদেশের সাংবাদিকদের ওপর চলমান নিপীড়ন ও বাকস্বাধীনতা হরণের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দমনমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এ পর্যন্ত অন্তত ৪১২ জন সাংবাদিককে হত্যার হুমকি, হয়রানি ও মামলার মুখোমুখি হতে হয়েছে। ৩৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, অনেকে আদালতের নিষেধাজ্ঞায় পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধার মুখে পড়েছেন, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হয়েছে, এবং অনেকে প্রবাসে নির্বাসিত জীবনযাপন করতে বাধ্য হয়েছেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিশ্ববিখ্যাত নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন প্রতিষ্ঠানের ১১ হাজার কর্মীর বিভিন্ন পর্যায় ও বিভিন্ন জেলা শহরে ধারাবাহিক সাংবাদিক নির্যাতন চলছে। আদালতের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে অনেক সাংবাদিকের উপর। বিনা দোষে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

ঢাকাসহ সারাদেশে সহস্রাধিক সাংবাদিক বেকার, ১৬৮ জন সাংবাদিক প্রেস আনঅ্যাক্রেডিটেড করা হয়েছে, জাতীয় প্রেস ক্লাবসহ সারাদেশের প্রেসক্লাবগুলো থেকে ১০১ জন সাংবাদিককে সদস্যপদ স্থগিত, বাদ ও বহিষ্কার করা হয়েছে এবং এরিয়া ভিত্তিক তালিকা নিরঞ্জন করে চলেছে অন্তর্বর্তিকালীন সরকারের প্রেস উয়িং। জুলাই-আগস্ট আন্দোলন ও প্রতিবাদের সময় ১০ জন সাংবাদিক নিহত এবং অগণিত সাংবাদিক আহত হলেও সরকার পক্ষ থেকে অভিযুক্ত সাংবাদিক ও তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে হয়রানি ও নির্যাতনের পন্থা অবলম্বন করা হচ্ছে। যা শুধু বাংলাদেশের নয়, সারা বিশ্বের মধ্যেই বিরল ঘটনা। এসব নির্যাতন ও নিপীড়নের ফলে অসংখ্য সাংবাদিক ও তাদের পরিবার মারাত্মক মানসিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন এবং স্বাভাবিক জীবন-যাপন করতে পারছেন না। বলার অপেক্ষা রাখে না, উপর্যুক্ত সংখ্যাগুলো প্রতিনিয়ত বাড়ছে।

স্বাক্ষরকারীরা এই দমননীতিকে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন,

“এসব দমনমূলক কার্যকলাপ মূলত বাকস্বাধীনতাকে হরণ করার চেষ্টা, যা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য লজ্জাজনক।”

বিবৃতিতে আধংকা প্রকাশ করে বলা হয়, আমরা মনে করি এসব নির্যাতনমূলক কর্মকাণ্ড মূলত বাক স্বাধীনতাকে হরণ করার জন্যই করা হচ্ছে, যার ফলে দেশের ভাবমূর্তির নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। অতএব, এসব মিথ্যা মামলা ও বেকারীকরণসহ অন্যান্য নির্যাতনমূলক পদক্ষেপ বন্ধে সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না, বরং উল্টো দেখা যাচ্ছে তাদের মদত। এতে আমাদের সন্দেহ জোরদার হচ্ছে যে, সরকারই নির্যাতন পরিচালনার সঙ্গে জড়িত। বাংলাদেশ এখন একটি আন্তর্জাতিক সরকারব্যবস্থার অধীনে এবং বিশ্ববিখ্যাত নোবেলজয়ী একজন প্রতিষ্ঠাতা সদস্যের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। তা ছাড়া উপনির্বাচন পরিষদের সদস্যরাও অতীতে সাংবাদিকদের অধিকার সুরক্ষায় সোচ্চার ছিলেন। অথচ আজ তাদের হাতেই সাংবাদিক নির্যাতন ও বাক স্বাধীনতা হরণের ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটছে, যা আমাদের হতবাক ও আহত করেছে।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন শওগাত আলী সাগর, নসীম বেগম, ড. ইউনূস চৌধুরী, সুজাত বংশী, আতীকুন নবী চৌধুরী, নাসির আনাস পাটোয়ারী, ড. মোহাম্মদ রকিব বংশী, ড. এনামুল ইসলাম, কে এ এম কায়সার, জেসরিন চৌধুরী, সরফিয়া জারিন, নাসির রাহমান সাইফ, ড. রায়হান শরীফ, ড. নওশীন তান্না, ওয়াজিয়া ইসলাম, নুসরাত রিজওয়ান, তুষার আহমেদ, হারুন মোহাম্মদ, সারমিন খান, আকতারা জানান, ফাতেমা হাসান, জাহানারা নূরী, বাঁধন মুর্শিদী, কাজল মির্জা, আজিম খান, বি. দ্রুপ্তরঞ্জনা ড. নুরুন নবী, ড. রজনী নূর, ড. তাজুল ইসলাম, ড. মাহফুজুল্লাহ, সুব্রত রায়, কুলসুম হায়দার, হাসানআল আবদুল্লাহ, শীলা মোস্তফা, অধ্যাপক ড. নীরু কেএন, ড. আবু নাসের রাজীব, ড. রায়হান জারিল, সজল মাহবুব, সুলতানা নাহিয়ান, মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, লুৎফুন নাহার লতা, ফারজানা মাহবুব ডন, ফরহাদ ইলিয়াস, ফাহমিদা ইলিয়াস তুলা, নাসিমা জারিফ হাসান, ড. আনজুমান এ ইসলাম, ওবায়েদুল্লাহ মামুন, স্বপ্নীল রফিক, খালেদ সিফউদ্দিন, স্মৃতি ভদ্র, নুতুন ফারুক তুষার, রুকাইয়া জুহুরা, পুরিতা অরিন্দিতা, রিনহাজ আহমেদ, মিনহাজ কাদের, রজ এই আলম, রেহনুমা আহমেদ, রসারশালী চামান, সার্বনা নীরু, আবু সাঈদ হোসেন, মুজাহিদ আনসারী, তেলওয়াত এলাহী, কৌরক আহমেদ, আসলাম আহমেদ খান, ক্লারিসা মাজারিও, এরন ফিলিপস, মারকুল হাসান, নাহিন তৃণা, শামীম তসলিম, সালেহা বেগম, সাইফুল্লাহ মাহবুব গুলজার, এবং আরও অনেকে।

বিবৃতিতে তাঁরা উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে এমন ভয়াবহ দমন-পীড়নের নজির বিরল। সরকার যদি এই পদক্ষেপ থেকে সরে না আসে, তাহলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ অনিবার্য হবে বলে সতর্ক করেন তাঁরা।

 

Visited 43 times, 1 visit(s) today