বিমানবন্দরে উপদেষ্টা আসিফের ম্যাগাজিন জব্দ: চাপের মুখে সংবাদ সরালো সংবাদমাধ্যমগুলো

বিমানবন্দরে উপদেষ্টা আসিফের ম্যাগাজিন জব্দ: চাপের মুখে সংবাদ সরালো সংবাদমাধ্যমগুলো
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার ব্যাগে অ্যাম্যুনিশনভর্তি ম্যাগাজিন জব্দ করার সংবাদ প্রকাশের পর তা সরিয়ে ফেলতে বাধ্য হয়েছে বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম। যার মধ্যে রয়েছে ঢাকা পোস্ট, বার্তা২৪সহ আরও কয়েকটি পোর্টাল।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা বিশেষ করে সচিব শফিকুল আলমের পক্ষ থেকে ‘চাপ’ আসার পর এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

অ্যাম্যুনিশনভর্তি ম্যাগাজিন জব্দের ঘটনাটি ঘটে আজ ২৯শে জুন, শনিবার। সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। টার্কিশ এয়ারলাইন্সের TK-713 ফ্লাইটে তুর্কিয়ে হয়ে মরক্কোর উদ্দেশে রওনা হন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ, যেখানে মারাক্কেশে অনুষ্ঠেয় “ওআইসি ইয়ুথ ক্যাপিটাল–২০২৫” সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন তিনি। নিরাপত্তা চেকিংয়ের সময় তার হ্যান্ড লাগেজে একটি অ্যাম্যুনিশনভর্তি ম্যাগাজিন শনাক্ত হয়। পরে সেটি তিনি নিজের প্রটোকল অফিসারের কাছে হস্তান্তর করেন।

বিমানবন্দর সূত্র জানিয়েছে, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া তার পাসপোর্ট নং- (D0001818**) নিয়ে ৯নং বোর্ডিং ব্রিজে  ছিলেন। আইএনএস-এ তার হাতে থাকা ব্যাগ স্ক্যানিং করার সময় গুলিভর্তি ম্যাগাজিনের উপস্থিতি ধরা পড়ে। তিনি তখন দাবি করেন, ভুলে ম্যাগাজিনটি ব্যাগে রয়ে গেছে বলে। এরপর তার একান্ত সচিব (যুগ্ম সচিব) মো. আবুল হাসান ম্যাগাজিনটি নিয়ে বিমানবন্দর ত্যাগ করেন।

বিমানবন্দর সূত্র আরও জানিয়েছে, এই অ্যাম্যুনিশন উদ্ধারের বিষয়ে বোর্ডিং ব্রিজের নথিপত্রে কোনো রেকর্ড রাখা হয়নি। এমনকি ভিআইপি জোনে প্রবেশ করার সময় তার হাতের ব্যাগটি আর স্ক্যান করা হয়নি।

ইন্টারন্যাশনাল সিভিল আভিয়েশন অর্গানাইজেশন, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, অ্যারোনটিকাল ইনফরমেশন পাবলিকেশন এবং ইন্টারন্যাশনাল ইয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের নিয়ম অনুযায়ী, কেবিন ব্যাগে গুলি বা ম্যাগাজিন বহন সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। তবে নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে চেক-ইন লাগেজে এসব আইটেম বহনের সুযোগ আছে। যা বিশেষ নিরাপত্তায় পরিবহন করে গন্তব্যে পৌঁছানোর পর হস্তান্তর করা হয় যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে। তবে এক্ষেত্রে সেই নিয়ম মেনে চলা হয়নি বলেই সূত্র জানায়।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বিশেষ করে নিরাপত্তা প্রটোকল লঙ্ঘনের বিষয়টি ঘিরে প্রশ্ন ওঠে। তবে বরাবরের মতোই প্রভাবশালী পদে থাকা ব্যক্তি জড়িত থাকায় বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা শুরু হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালই প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি নিয়ে সংবাদের শিরোনাম করলেও কয়েক মিনিটের মধ্যে তা ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে থেকে সরিয়ে ফেলা হয়।

অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো জানায়, প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে এই নির্দেশ যায় সংবাদমাধ্যমগুলোর কাছে। বিশেষ করে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমের নির্দেশনায় চাপ প্রয়োগ করে সংবাদ প্রতিবেদনটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্নে এটি একটি উদ্বেগজনক দৃষ্টান্ত বলেই মনে করছে সাংবাদিক সমাজ। এভাবে চাপ দেওয়া হলে নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন সম্ভব নয় বলে জানান জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক বলেন, “নিরাপত্তা লঙ্ঘনের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা চাপের মুখে সংবাদমাধ্যম থেকে সরিয়ে ফেলা হলে জনগণের তথ্য প্রাপ্তির অধিকার হুমকির মুখে পড়ে। সংবাদমাধ্যমকে চাপ প্রয়োগ করা স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের শামিল”

এই বিষয়ে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সরকারি কোনো সংস্থাও আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো পর্যন্ত মন্তব্য করেনি।

সাংবাদিক মহলে এখন প্রশ্ন— বিমানবন্দরের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় অস্ত্র-গোলাবারুদ বহন করার ঘটনা কি ‘প্রভাব’ দেখিয়ে আড়াল করা যায়? নাকি এটি আরও গভীর তদন্তের দাবি রাখে?

Visited 19 times, 1 visit(s) today