মণিপুরে মার্কিন তৈরি অস্ত্র জব্দ: টেকনাফ-রাখাইন কি তবে অস্ত্র সরবরাহের রুট ?

মণিপুরে মার্কিন তৈরি অস্ত্র জব্দ: টেকনাফ-রাখাইন কি তবে অস্ত্র সরবরাহের রুট ?
শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইম্ফাল, ২৯ জুন ২০২৫ (বিডিডি) — মণিপুরের পূর্ব ইম্ফাল-এ  গত ২৪ জুন পাঁচজন ইউনাইটেড ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট-পামবেই (ইউএনএলএফ-পি) বিদ্রোহীকে গ্রেপ্তারের সময় মার্কিন তৈরি অস্ত্র জব্দ করেছে পুলিশ। কর্তৃপক্ষের সন্দেহ, এই অস্ত্রগুলো মিয়ানমার থেকে পাচার করা হয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশ আরাকান আর্মির সঙ্গে রসদ সরবরাহের জন্য যে হিউম্যানিটারিয়ান করিডোর বাস্তবায়ন করছে, সেই করিডোরের মাধ্যমেই বিচ্ছিন্নতাবাদীদের কাছে এই মার্কিন অস্ত্র পৌঁছাতে পারে। রাখাইন অস্ত্র পাচারের খুব নিরাপদ রুট হয়ে গেছে, যেহেতু এই অঞ্চলের ১৭টির মধ্যে ১৪টি টাউনশিপ বিদ্রোহী আরকান আর্মির দখলে রয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা আরো মনে করছেন, আরকান আর্মির কাছে মার্কিন অস্ত্র পৌছানোর উদ্দেশ্যেই বাংলাদেশের মাধ্যমে “মানবিক করিডোর” বা “ত্রাণ চ্যানেল” প্রতিষ্ঠা করতে কাজ করছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা, মার্কিন নাগরিক খলিলুর রহমান বা রজার রহমান ও ড ইউনুসের সরকার।
মণিপুর থেকে এই মার্কিন অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায়, এই সন্দেহ থেকেই যায়, “ত্রাণ চ্যানেল” এর মাধ্যমে সম্ভবত অস্ত্র সরবরাহ শুরু হয়ে গেছে।

ইম্ফাল পূর্ব পুলিশের সিনিয়র সুপারিন্টেনডেন্ট রাকেশ বালওয়ালের নেতৃত্বে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ২৪ জুন ভোরে নোংমেইবুম আয়ানপল্লি এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে লানচেনবা নংথোমবাম (২৪) নামে এক ব্যক্তির বাড়ি ঘিরে তল্লাশি চালানো হয়। তদন্তে জানা যায়, নংথোমবাম প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া এবং জাল নথি ব্যবহার করে অস্ত্র ও গোলাবারুদ বিক্রি করছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, তিনি থাংমেইবান্দ সিনাম লেইকাই ও লৌরু পুরেল লেইকাইয়ের সিনাম সোমেন্দ্রো মেইতি ওরফে পাংখেই ওরফে রিচার্ডের কাছ থেকে এই অস্ত্র পেয়েছিলেন।

সোমেন্দ্রোর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ স্মিথ অ্যান্ড ওয়েসন, সিগ সাউয়ার, গ্লক, ব্রাউনিং, কেলটেক ও বেরেটা ব্র্যান্ডের মার্কিন তৈরি অস্ত্র, বিভিন্ন ধরনের গোলাবারুদ, তিনটি আইফোন ১৬ এবং একটি বাওফেং ওয়্যারলেস হ্যান্ডসেট জব্দ করে। পুলিশ জানিয়েছে, জব্দকৃত অস্ত্রগুলো জিরিবামের হেনথোই এবং ইম্ফাল পশ্চিমের সিংজামাই চিরোম লেইকাইয়ের রাজকুমার আবোথে সিংয়ের দখলে ছিল।

মণিপুর পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলো মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী, বিশেষ করে চিন ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোর্স (সিএনডিএফ), কাচিন ইন্ডিপেন্ডেন্স আর্মি (কেআইএ) এবং আরাকান আর্মির সঙ্গে সম্পর্কের তদন্ত করছে। তদন্তকারীরা খুন্দোংবাম লানজিংবা নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে গ্রেপ্তারকৃতদের সম্পর্ক খতিয়ে দেখছে, যিনি ২০১০ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত মিয়ানমারে অস্ত্র পাচারের অভিযোগে কারাবন্দি ছিলেন।

পাঞ্জাব ও বিহারের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর তথ্যের ভিত্তিতে চারজন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা এগোচ্ছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ইউএনএলএফ-পি ভারতের অভ্যন্তরে এবং বাইরের বিদ্রোহী ও অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর কাছে অস্ত্র সরবরাহ করছিল। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

Visited 13 times, 1 visit(s) today