জুলাইয়ের নিহতের তালিকায় মিলল আরও ভুয়া নাম, অনিয়ম-প্রতারণার অভিযোগ

জুলাইয়ের নিহতের তালিকায় মিলল আরও ভুয়া নাম, অনিয়ম-প্রতারণার অভিযোগ
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই-আগস্টে আন্দোলনে গিয়ে মৃত ও আহতদের তালিকা তৈরিতে অনিয়ম ও প্রতারণার অভিযোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জুলাই ফাউন্ডেশন। ফাউন্ডেশনের দাবি, সরকারি ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমে (এমআইএস) অন্তর্ভুক্ত অনেকেই প্রকৃত নিহত বা আহত নন— তারা রাজনৈতিক প্রভাব, জাল কাগজপত্র ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত হয়েছেন।

ফাউন্ডেশন অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে পাঠানো চিঠিতে জানিয়েছে, “এই প্রক্রিয়া ছিল দুর্বল, অবহেলাপূর্ণ এবং ত্বরিত রাজনৈতিক চাপের ফলে বিকৃত।” তারা এটিকে শুধু নিহতদের প্রতি অবিচার নয়, বরং পুরো আন্দোলনের মর্যাদার উপর আঘাত বলেও উল্লেখ করেছে।

জুলাই আন্দোলনে অংশ না নিয়ে পরবর্তী দুর্ঘটনায় আহত হয়েও অনেকে নিজেদের ‘আহত যোদ্ধা’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছেন। এমনকি পারিবারিক কলহে খুন, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা কিংবা চাঁদাবাজির জেরে গণপিটুনিতে মৃতরাও নিহতের তালিকায় স্থান পেয়েছেন।

উদাহরণস্বরূপ, চাটখিলের ইমতিয়াজ হোসেন, যিনি থানা লুটের অস্ত্রে আত্মঘাতী গুলিতে নিহত হন, তার নামও রয়েছে নিহতের তালিকায় । যার গেজেট নম্বর ৭৮৪। একইভাবে ডেমরার আবু সাইদ, যিনি চাঁদাবাজি করতে গিয়ে সময় গণপিটুনিতে নিহত হন, তিনিও আছেন তালিকায় (গেজেট নম্বর ১৭৯)।

ঢাকার বিজয় নামের এক ব্যক্তি যিনি সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান এবং ওয়ারীর আল আমিন যিনি পারিবারিক বিরোধে নিহত হন—তাদের নামও জুলাইয়ের নিহতের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা যায়, এখন পর্যন্ত ভুয়া পরিচয়ে তালিকাভুক্ত ৭০ জনের বেশি ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে ১৯ জনের নাম বাতিলের জন্য সরকারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। কিছু প্রতারণাকারীর কাছ থেকে টাকা ফেরত নেওয়া হয়েছে, আবার অনেককে ‘মুচলেকা’ নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

ফাউন্ডেশন কর্মকর্তাদের মতে, আন্দোলনের সময় অসংখ্য আহত ব্যক্তি হাসপাতালগুলোতে ভিড় করায় যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া দুর্বল ছিল। সিভিল সার্জন ও জেলা প্রশাসনের তদারকিতে ঘাটতি থাকার পাশাপাশি রাজনৈতিক চাপেও তালিকা বিকৃত হয়েছে।

গ্রাহক সেবা কর্মকর্তা সাইদুর রহমান শাহিদ জানান, আমরা একটি ‘ফ্রড ডিটেকশন টিম’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছি। সঠিক যাচাই হলে এখনো দেড় হাজারের মতো ভুয়া নাম শনাক্ত করা সম্ভব।

জুলাই আন্দোলন সংক্রান্ত বিশেষ সেলের দলনেতা (যুগ্ম সচিব) মো. মশিউর রহমান স্বীকার করেছেন, নিহতের তালিকায় আপত্তি খুব সীমিত হলেও আহতদের তালিকায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আপত্তি এসেছে।

তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে পুনঃযাচাই করা হচ্ছে।

Visited 11 times, 1 visit(s) today