অর্থনীতি
ঢাকা মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি জানিয়েছে, আসন্ন ঈদ উপলক্ষে ১০ দিনের সরকারি ছুটির কারণে ২০২৫ সালের জুন মাসে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
এর আগে এপ্রিল মাসে ঈদ-উল-ফিতরের কারণে দীর্ঘ ছুটিতে রপ্তানি চালানে ধীরগতি দেখা যায়, যার ফলে মাসটি জুড়ে রপ্তানি আয় খুব সামান্য পরিমাণে বৃদ্ধি পায়।
ঢাকা মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) তাদের সর্বশেষ ত্রৈমাসিক (জানুয়ারি-মার্চ, অর্থবছর ২০২৪-২৫) অর্থনৈতিক পর্যালোচনায় জানিয়েছে, জুন পর্যন্ত তিন মাসে আমদানি ও রেমিটেন্স প্রবাহ কিছুটা বাড়তে পারে, যা স্বল্পমেয়াদে বৈদেশিক খাতের স্থিতিশীলতা আনতে সহায়ক হতে পারে।
তবে চেম্বার সতর্ক করেছে যে, এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (ACU) মার্চ-এপ্রিল সময়কালের পাওনা পরিশোধের কারণে ২০২৫ সালের মে মাসে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ হ্রাস পেতে পারে।
চেম্বারটি জানিয়েছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মুদ্রাস্ফীতি কিছুটা কমেছে, তবে মে ও জুনে দেশীয় যোগান সংকট এবং বৈদেশিক ব্যয়ের চাপের কারণে তা আবার বাড়তে পারে।
চলমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও বাংলাদেশের অর্থনীতি ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রাথমিক ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে এমসিসিআই মনে করছে।
চেম্বারটি বলেছে, বাংলাদেশের স্বল্প মজুরি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য আকর্ষণীয় হলেও, অপর্যাপ্ত অবকাঠামো, জ্বালানি সংকট, দুর্বল বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা, নীতিগত ও নিয়ন্ত্রক অসামঞ্জস্য, শিল্প ভূমির অভাব, দুর্নীতি এবং আইনের অস্বচ্ছ প্রয়োগের কারণে বিদেশি বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারকে অবকাঠামোগত ও নীতিগত প্রতিবন্ধকতা দ্রুত দূর করতে হবে।”
এছাড়া, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত এবং আন্তর্জাতিক অনিশ্চয়তা বাংলাদেশের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
চেম্বার আরও উল্লেখ করেছে, ব্যাংকিং খাতে নিয়ন্ত্রক ব্যর্থতা ও বড় অঙ্কের ঋণ কেলেঙ্কারি জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন করেছে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে বিলম্ব সৃষ্টি করছে।
প্রতিবেদন শেষে বলা হয়েছে, ব্যাংক খাতে চলমান সংস্কার এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনআস্থা পুনরুদ্ধারই জিডিপি প্রবৃদ্ধি পুনরুজ্জীবিত করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।
