আন্তর্জাতিক
গাজায় ইসরায়েলের চলমান হামলায় হতাহতের সংখ্যা বাড়তে থাকায় কড়া সমালোচনা করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) শীর্ষ কূটনীতিক কায়া কাল্লাস। তার মতে, হামাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রয়োজনের চেয়েও বেশি মাত্রায় অভিযান চালাচ্ছে ইসরায়েল।
তিনি বলেন, “মানবিক সহায়তাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা ঠিক নয়। বেসরকারিভাবে ত্রাণ বিতরণ ব্যবস্থাও গ্রহণযোগ্য নয়।”
গাজায় ইসরায়েলি অভিযানে নিহতদের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। হামাস-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চে যুদ্ধবিরতি ভেঙে আবার হামলা শুরু করার পর থেকে অন্তত ৩,৯২৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
শুধু গত সপ্তাহেই খান ইউনিসে এক ফিলিস্তিনি চিকিৎসকের ১০ সন্তানের মধ্যে ৯ জন নিহত হন। এছাড়া, উত্তর গাজার একটি স্কুলে আশ্রয় নেওয়া ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে সোমবারের এক হামলায়।
এই পরিস্থিতিতে ইইউ-এর ভেতর থেকে ইসরায়েলের নিন্দার সুর আরও জোরালো হচ্ছে।
জার্মানির নতুন চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎস বলেন, “ইসরায়েলের লক্ষ্য এখন আর পরিষ্কার নয়। এভাবে বেসামরিক মানুষের মৃত্যু হামাসবিরোধী লড়াইকে ন্যায়সঙ্গত রাখছে না।”
চ্যান্সেলরের এই মন্তব্যের পরই সরব হন ইইউ-এর প্রধান কূটনীতিক কায়া কাল্লাস। তিনি অভিযোগ করেন, ইইউ থেকে আসা মানবিক সহায়তা অবরোধের কারণে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না। মার্চ থেকে পুরোপুরি অবরুদ্ধ গাজায় ১১ সপ্তাহ পর সামান্য ত্রাণ ঢুকতে দেওয়া হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
“গাজার মানুষ চরম কষ্টে আছে। ইউরোপ থেকে সহায়তা এলেও তা মানুষের হাতে পৌঁছাচ্ছে না,” বলেন কাল্লাস।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েনও গাজায় ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলাকে ‘অতিরিক্ত’ ও ‘ন্যাক্কারজনক’ বলে অভিহিত করেছেন।
তার এই মন্তব্য আসে এমন এক সময়ে, যখন যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডা প্রথমবারের মতো একযোগে ইসরায়েলের গাজা অভিযানের বিরোধিতা করে তা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।
