নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে টানা দরপতনের ধারা অব্যাহত রয়েছে। বিনোয়োগকারীদের মধ্যে চরম অস্তিরতা বিরাজ করছে। গত ৬ কার্যদিবসে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সূচকে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। এই সময়ে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমেছে মোট ১৮৬.৪৯ পয়েন্ট, আর বাজার থেকে উধাও হয়েছে প্রায় ৯ হাজার ১২৬ কোটি টাকার মূলধন। একদিনেই সূচক পতন ৬২ পয়েন্ট, দরপতন ২৯৫ কোম্পানির
২৮শে মে, বুধবার দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইএক্স সূচক ৬২.৭২ পয়েন্ট কমে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৬১৫ পয়েন্টে। এদিন শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৩৯৮টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ারের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ৭৪ শতাংশ বা ২৯৫টির শেয়ারের দাম কমেছে। অপরদিকে দাম বেড়েছে মাত্র ৬৩টি কোম্পানির, আর ৪০টি শেয়ারের দাম অপরিবর্তিত ছিল।
লেনদেনের শুরু থেকেই সূচকে নেতিবাচক প্রবণতা দেখা যায়। দিনের শুরুতে সূচক কমে ১০ পয়েন্ট, যা বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও তীব্র হতে থাকে। বাজারে ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বাজারের সঙ্গে সঙ্গে লেনদেনের পরিমাণেও হ্রাস দেখা গেছে।
বুধবার ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ২৬৪ কোটি ৯৮ লাখ টাকার, যা আগের দিনের তুলনায় প্রায় ৮ কোটি টাকা কম।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ক্রমাগত পতনের কারণে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমে যাচ্ছে, ফলে বাজারে নতুন বিনিয়োগ আসছে না।
এদিকে দরপতনের প্রভাব পড়েছে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)-তেও। এদিন সিএসইর সার্বিক সূচক কমেছে ১৫০.৪১ পয়েন্ট, অবস্থান করছে ১৩ হাজার ১৩ পয়েন্টে। সেখানে লেনদেন হয়েছে মাত্র ১৮ কোটি ৫২ লাখ টাকার শেয়ার।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু আর্থিক সংকট নয়, বিনিয়োগকারীদের আস্থার ঘাটতিই বর্তমান ধসের মূল কারণ। দীর্ঘদিন ধরে বাজারে স্বচ্ছতা, সুশাসন ও কার্যকরী নিয়ন্ত্রণের অভাবে বিনিয়োগকারীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
তারা বলছেন, বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) বাজার স্থিতিশীল রাখতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছে না।
এই পরিস্থিতিতে আরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক নির্দেশনা, যেখানে ২০২৪ সালের জন্য তালিকাভুক্ত ১৮টি ব্যাংককে কোনো ধরনের লভ্যাংশ না দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বাড়াতে পারে এবং ব্যাংক খাতের শেয়ারগুলোর ওপর বিশেষ প্রভাব ফেলবে।
অর্থনীতিবিদরা জানান, বাংলাদেশের পুঁজিবাজার বর্তমানে এক সংকটময় সময় পার করছে। সূচকের টানা পতন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা সংকট, লেনদেন কমে যাওয়া এবং নীতিনির্ধারকদের অস্পষ্ট অবস্থান সবকিছু মিলিয়ে বাজার থেকে মূলধন দ্রু হারিয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এখনই কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি বলে মনে করছেন তারা।
