নিজস্ব প্রতিবদেক | ১৪ই মে, ২০২৫
ভারতের ভিসা বন্ধ থাকার কারণে হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে পাসপোর্টধারী যাত্রী যাতায়াতে বড় ধরনের ধস নেমেছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং হ্রাস পাচ্ছে সরকারের রাজস্ব আয়। বর্তমানে সীমিত সংখ্যক মেডিকেল ও স্টুডেন্ট ভিসাধারী ছাড়া অন্য সব শ্রেণির ভিসা বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন আমদানিকারক ও পর্যটকরা।
হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট সূত্রে জানা গেছে, ভারতের সঙ্গে সহজ সড়ক ও রেল যোগাযোগ থাকার কারণে হিলি চেকপোস্ট দীর্ঘদিন ধরে উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্য কলকাতা ও চেন্নাইসহ বিভিন্ন গন্তব্যে পৌঁছাতে একটি জনপ্রিয় রুট ছিল। চিকিৎসা, শিক্ষা, ব্যবসা ও ভ্রমণের জন্য প্রতিদিন গড়ে ৬০০ থেকে ৭০০ যাত্রী এই পথে যাতায়াত করতেন। কিন্তু গত ৫ই আগস্ট রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনের পর ভারত বিজনেস ও ট্যুরিস্ট ভিসা বন্ধ করে দেয়। যাদের পুরনো ভিসা ছিল, কেবল তারাই কিছুটা সীমিতভাবে যাতায়াত করতে পারছেন।
বিশেষ করে হিলি বন্দর ব্যবহারকারী আমদানিকারকরা এই সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
আমদানিকারক মাহবুব রহমান জানান, “আমরা যেসব পণ্য আমদানি করি, সেগুলো নিজের চোখে দেখে কিনে আনা জরুরি। কিন্তু এখন ভিসা না থাকায় শুধু মোবাইলের ছবির ওপর নির্ভর করে পণ্য কিনতে হচ্ছে। এতে পণ্যের গুণগত মান যাচাই করা যায় না। একবার খৈল আমদানি করে দেখি, তা মানহীন। ভারতীয় প্রতিনিধি না আসা পর্যন্ত খালাস সম্ভব হয়নি, অনেক ক্ষতির মুখে পড়েছি। এই সমস্যা প্রতিনিয়তই ঘটছে। ফলে আমদানি বাণিজ্য ধীরে ধীরে কমছে।”
অপর আমদানিকারক নুর ইসলাম বলেন, “সরকার পরিবর্তনের পর থেকে ভারত আমাদের বিজনেস ভিসা দিচ্ছে না। অথচ আমদানির আগে পণ্য পরীক্ষা করাটা আমাদের ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এখন ফোনে কথা বলে পণ্য কিনতে হচ্ছে, কিন্তু ভারতীয় রপ্তানিকারকরা প্রতিশ্রুত পণ্য প্রেরণ করছে না, এতে বড় ধরনের লোকসান হচ্ছে। ভারত সরকারের প্রতি অনুরোধ, ব্যবসার স্বার্থে বিজনেস ভিসা চালু করা হোক।”
ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ভ্রমণ করতে না পারায় সাধারণ যাত্রীরাও অসন্তোষ প্রকাশ করছেন।
সুফিয়া নামের এক নারী বলেন, “ভারতে আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা করতে পারছি না। অথচ ভারতীয়রা ঠিকই বাংলাদেশে ঘুরতে আসছেন। এটা স্পষ্ট বৈষম্য।”
চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ভারতে যাওয়া রোগী সুমন জানান, “আমার দুটি কিডনি বিকল হয়ে গেছে। আগে ভারতে চিকিৎসা নিয়েছি। কিন্তু নতুন করে ভিসা পেতে চার মাস কষ্ট করতে হয়েছে। এমনকি ভিসা পেতে বিপুল খরচও হয়েছে।”
হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম বলেন, “আগে প্রতিদিন ৬৫০ থেকে ৭০০ পাসপোর্টধারী যাত্রী পার হতো। বর্তমানে মেডিকেল ও স্টুডেন্ট ভিসাধারী মিলিয়ে প্রতিদিন ১২০–১৫০ জন যাত্রী যাতায়াত করছে, যার মধ্যে প্রায় ৮০ জন ভারতীয় নাগরিক।”
তিনি আরও জানান, ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ২০২৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত যাত্রী পারাপারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭০ হাজার ৩৪৬, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১ লাখ ৬৫ হাজার ৪৭৫ জন।
এদিকে যাত্রী সংখ্যা হ্রাস পাওয়ায় হিলি স্থল শুল্ক স্টেশনেও রাজস্ব আদায়ে ব্যাপক পতন হয়েছে।
রাজস্ব কর্মকর্তা আতিকুর রহমান জানান, আগে প্রতিদিন ভ্রমণ কর বাবদ ২.৫ থেকে ৩ লাখ টাকা আদায় হতো, এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকায়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভারত যদি আবার ভিসা প্রদান শুরু করে, তবে যাত্রী সংখ্যা বাড়বে এবং রাজস্ব আদায়ও আগের মতো ফিরবে।
