নিজস্ব প্রতিবেদক | ৯ই এপ্রিল, ২০২৫
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার সেজামুড়া সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বিরুদ্ধে ভারতের সীমান্তের ভেতরে অবৈধ অনুপ্রবেশ করা এক বাংলাদেশি যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
নিহতের নাম মুরাদুর রহমান মুন্না (৩০)। তিনি উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নের সেজামুড়া গ্রামের বাসিন্দা। তার স্বজনরা এমন অভিযোগ করেছেন।
যদিও বিষয়টি অস্বীকার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি)। তাদের দাবি, ওই যুবক অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করার পর আবার সুস্থভাবে দেশে ফিরে এসেছেন।
৮ই এপ্রিল, মঙ্গলবার রাতে উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নের সেজামুড়া সীমান্তের জিরো পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে সরাইল ২৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফারাহ মোহাম্মদ ইমতিয়াজ বলেন, মুন্না নামে এক যুবক ভারতে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করার পর আবার সুস্থভাবে দেশে ফিরে এসেছেন। তখন তাকে দেখতে পেয়ে স্থানীয় একজনের মাধ্যমে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।
যদিও নিহত মুন্নার স্ত্রী রত্না ও বোন আমেনা খাতুনের দাবি, মঙ্গলবার বিকেলে মুন্না তার ধানি জমি দেখতে সেজামুড়া সীমান্তের কাছে গেলে বিএসএফ তাকে বাংলাদেশের ভেতর থেকে ধরে নিয়ে যায়। পরে তাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে আবার বাংলাদেশ সীমান্তের ভেতরে ফেলে রেখে চলে যায়।
এসময় বিজিবি সদস্যরা টহলে গেলে তাকে আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেয়। তাকে গুরুতর অবস্থায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। স্বজনরা এ ঘটনায় সরকারের কাছে বিচার দাবি করেছেন।
যদিও বাংলাদেশের সীমান্তের ভেতর থেকে কাউকে বিএসএফ তুলে নিয়ে পিটিয়ে আবার বাংলাদেশের সীমান্তের ভেতরে রেখে গেছে, এমন দাবি নাকচ করে দিয়েছে বিজিবি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সীমান্তের কাঁটাতার থেকে ১৫০ থেকে ৩০০ গজের ভেতরে বিজয়নগর উপজেলার সেজামুড়ায় মুন্নাদের ফসলি জমি রয়েছে। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে মুন্না সেখানেই থাকতেন। মঙ্গলবার মুন্না দুপুরে জমিতে যান। বিকেল ৫টার পরও বাড়ি না ফেরায় উদ্বিগ্ন স্ত্রী তাকে খুঁজতে বের হন, কিন্তু সন্ধান পাননি। একজন ফোন করে তাকে জানান, মুন্নাকে বিএসএফ ধরে নিয়ে গেছে।
সন্ধ্যায় মুন্নাকে নিজের জমিতে পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করে চম্পকনগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান স্বজনরা। অবস্থার অবনতি হলে রাতে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আরাফাত বলেন, অজ্ঞান অবস্থায় মুন্নাকে হাসপাতাল আনলে আমরা তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করি। তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে রয়েছে।
এ বিষয়ে বিজিবির টহল টিমের বরাতে লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইমতিয়াজ বলেন, আমরা খবর পেয়েছি মুন্না অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশ করে। কী কারণে ভারতে ঢুকেছিল, বিএসএফ তাকে ধরেছে কি না বা না অন্য কেউ মেরেছে তা এখনও জানা যায়নি।
তিনি বলেন, মুন্না কাঁটাতার ডিঙিয়ে অবৈধভাবে ভারতীয় মাটিতে অনুপ্রবেশ করেন এবং সুস্থভাবেই দেশে ফিরে আসেন। সীমান্তে বিজিবির টহল সদস্যরা তাকে দেখতে পেয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি ভারতে অনুপ্রবেশের বিষয়টি স্বীকার করেন। এরপর তিনি বাড়িতে ফিরে যান। তবে তিনি আহত হয়েছিলেন কি না বা কোনো চোরাকারবারির সঙ্গে সংঘাত হয়েছে কি না, তা জানা যায়নি।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইমতিয়াজ বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। বিএসএফের সঙ্গে কথা বলে আরও বিস্তারিত জানতে পারব আমরা।
