নিজস্ব প্রতিবেদক
তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন শুরুর মাত্র ৩৮ দিনের মধ্যেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ সার কারখানায় ইউরিয়া উৎপাদন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে গেছে।
গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শনিবার রাত থেকে ইউরিয়া উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন আশুগঞ্জ সার কারখানার মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) এ বি মাহমুদ।
এর আগে, গত বছরের ১৪ই নভেম্বর পর্যন্ত উৎপাদন বন্ধ থাকায় শ্রমিকদের দীর্ঘ আন্দোলনের পর ১৫ই নভেম্বর বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড গ্যাস সরবরাহ শুরু করে। এরপর সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করে গত ২৩শে জানুয়ারি থেকে আবারও উৎপাদন চালু হয়।
কিন্তু মাত্র ৩৮ দিনের মধ্যেই আবারও গ্যাসের সংকটে পড়তে হলো।
আশুগঞ্জ সার কারখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিদিন অন্তত ১ হাজার ১৫০ টন ইউরিয়া উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে তাদের। তবে উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে দৈনিক অন্তত ৪৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন হয়। গ্যাস সংযোগ থাকলেও ‘চাপ কম’ থাকায় পুরো উৎপাদন ক্ষমতা অনুযায়ী ইউরিয়া উৎপাদন সম্ভব হচ্ছিল না।
এরই মধ্যে শনিবার সন্ধ্যার পর বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড কারখানায় গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। ফলে রাত থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ইউরিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে।
কারখানার মহাব্যবস্থাপক এ বি মাহমুদ বলেন, “গ্যাস ছাড়া সার উৎপাদন সম্ভব নয়। তাই কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কবে নাগাদ উৎপাদন চালু হবে, সেটি নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।”
বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের উপ-মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী জাহিদুর রেজা বলেন, “সরকারি সিদ্ধান্তের কারণে আশুগঞ্জ সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করা হয়েছে। কবে আবার সরবরাহ শুরু হবে, সেটিও সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। হয়তো চলতি মৌসুমে কারখানাটিতে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হবে না।”
