কাউন্টারভিত্তিক বাস বন্ধের দাবিতে সায়েদাবাদে সড়ক অবরোধে শ্রমিকরা

কাউন্টারভিত্তিক বাস বন্ধের দাবিতে সায়েদাবাদে সড়ক অবরোধে শ্রমিকরা
শেয়ার করুন
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকার সায়েদাবাদে পরিবহন শ্রমিকরা কাউন্টারভিত্তিক বাস না চালানোর দাবিতে আবারও সড়ক অবরোধ করেছেন।

সোমবার দুপুর ২টা থেকে ৩টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত জনপথ মোড়ের এই অবরোধের কারণে ওই এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, একটি বাস সড়কে আড়াআড়ি রেখে রাখা হয়েছে, যার কারণে অন্য যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। শ্রমিকরা নানা স্লোগান দিয়ে কাউন্টারভিত্তিক বাস চলাচল বাতিলের দাবি জানাচ্ছেন।

বিক্ষোভকারী শ্রমিকরা বলছেন, কাউন্টারে বাস চালানোর ফলে তাদের গাড়ির খরচও উঠছে না এবং মালিকরা তাদের কোনো টাকা দিচ্ছে না।

বিক্ষোভরত এক পরিবহন শ্রমিক জানালেন, কাউন্টার পদ্ধতিতে বাস চালানোর পর থেকেই তারা এখনও বেতন পাননি।

সাঈদুল নামের ওই শ্রমিক বলেন, “গত এক সপ্তাহ ধরে বাস স্টাফরা কোনো বেতন পাচ্ছে না। বাস মালিকরা তাদের জমার টাকা পাচ্ছে না। মালিকরা কি পকেট থেকে টাকা এনে দিবে? বাস যদি আগের মতো না চলে, তাহলে সায়েদাবাদ থেকে কোনো গাড়ি চলতে পারবে না।”

পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এসে শ্রমিকদের অনুরোধ করে অবরোধ প্রত্যাহার করতে বলেন। এরপর বেলা সাড়ে তিনটার দিকে তারা সড়ক থেকে উঠেন।

ঢাকার গণপরিবহনে শৃঙ্খলা আনার জন্য গত ৬ই ফেব্রুয়ারি গোলাপি রঙের বাস চালু করা হয়েছিল। তবে এই সেবার বিরোধিতা শুরু থেকেই করে আসছেন বাস মালিক এবং শ্রমিকদের একটি অংশ। গত ১০ই ফেব্রুয়ারি সায়েদাবাদ এলাকায় কেবল কাউন্টার থেকে যাত্রী তোলার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে আবারও বিক্ষোভ করেছেন কিছু বাস শ্রমিক।

সেদিন দুপুর ১২টার পর থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত জনপথ মোড় অবরোধ করে তারা। এতে সায়েদাবাদ এবং আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।

ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক রফিকুল ইসলাম সেদিন বলেছিলেন, বলাকা ও তুরাগ পরিবহনের শ্রমিকরা কাউন্টার-বাস চালাতে অসহযোগিতা করছে। তাদের দাবি বেতন কম বলে তারা কাউন্টারে গাড়ি চালাতে চায় না। যেখানে-সেখানে যাত্রী তুললে বেশি টাকা পাওয়া যায় বলে তারা মনে করেন।

ঢাকার আব্দুল্লাহপুর থেকে রাজধানীর বিভিন্ন গন্তব্যে চলাচল করা গাজীপুরের বাসগুলোর কাউন্টার পদ্ধতির সেবা শুরু করেছিলেন ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। তিনি বলেছিলেন, ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থা উন্নত করার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে সব রুটে এটি চালু করা হবে।

তিনি আরও বলেন, “ঢাকা বিমানবন্দরে বিদেশি নাগরিকরা এসে আমাদের বিশৃঙ্খল ট্রাফিক দেখে অবাক হন। বাসগুলো একে অপরকে গরু-মহিষের মতো ঠেলছে দেখে ট্রলও হয়।”

Visited 42 times, 1 visit(s) today