হিলিতে তৌহিদী জনতার হামলায় নারী ফুটবল ম্যাচ বন্ধ, আহত ৬

হিলিতে তৌহিদী জনতার হামলায় নারী ফুটবল ম্যাচ বন্ধ, আহত ৬
শেয়ার করুন
নিজস্ব সংবাদদাতা

জয়পুরহাটের পর দিনাজপুরেও উগ্রবাদীদের হামলায় পণ্ড হলো নারীদের ফুটবল ম্যাচ।

নারী ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করাকে কেন্দ্র করে দিনাজপুরের হাকিমপুরের হিলিতে ‘তৌহিদী জনতা’ নামে উগ্রবাদীদের লাঠিসোটা ও ধারালো অস্ত্রের হামলায় ৬ জন আহত হয়েছেন। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এই হামলার পর নারী ফুটবল টুর্নামেন্টটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার, ২৮শে জানুয়ারি বিকাল ৪টায় উপজেলার আলিহাট ইউনিয়নের বাওনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, এলাকার যুবসমাজ উপজেলার বাওনা এলাকায় নারী ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করে। তবে ‘বেপর্দা’ হয়ে নারীরা ফুটবল খেলবে, মেনে নিতে পারেনি উগ্রবাদীরা। শুরু থেকেই তারা টুর্নামেন্টের বিরোধিতা করে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিলেন। এমনকি খেলা বন্ধের দাবিতে তারা সশস্ত্র মিছিল করে। এমনকি নারীদের ফুটবল ম্যাচ বন্ধ না করলে আয়োজকদের ‘মাটিতে মিশিয়ে দেওয়ার’ হুমকিও দেয়।

এই হুমকি-ধমকির মধ্যেও মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় বাওনা মাঠে খেলা শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছিল আয়োজক কমিটি।

পড়ুন: উগ্রবাদীদের তাণ্ডবে পণ্ড হলো জয়পুরহাটে নারীদের ফুটবল ম্যাচ

হঠাৎ ‘তৌহিদী জনতা’ নামধারী উগ্রবাদীরা সশস্ত্র অবস্থায় বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে খেলার মাঠে উপস্থিত হন। তখন সংঘর্ষ ঘটতে পারে খবর পেয়ে দ্রুত ছুটে আসেন ইউএনও অমিত রায়, হাকিমপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার নিয়ামত উল্লাহ, হাকিমপুর থানার ওসি সুজন মিঞাসহ পুলিশের একটি দল। তারা আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। স্থানীয় বিএনপির নেতারাও উগ্রবাদীদের শান্ত করার চেষ্টা করছিল। কিন্তু কোনো কথা শুনতে রাজি হননি সশস্ত্র লোকজন।

এ সময় তারা নারীদের ফুটবল খেলা বন্ধের দাবি জানিয়ে হুমকি দেন। কিন্তু আয়োজক কমিটি এই হুমকি-ধমকির বিরোধিতা করলে উগ্রবাদীরা হামলা চালিয়ে বসে। তখন সংঘর্সে ৬ জন আহত হন। তাদের উদ্ধার করে হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তারা বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন আছেন।

পরে আহতদের দেখতে যান ইউএনও অমিত রায় ও হাকিমপুর থানার ওসি সুজন মিঞা। তারা আহতদের সঙ্গে কথা বলেন ও তাদের চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজ-খবর নেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. মশিউর রহমান বলেন, আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর। তার মাথায় আঘাত লেগেছে। সিটি স্ক্যান করলে বোঝা যাবে আঘাত কতটা গুরুতর। তবে অন্য দুই জনের স্টিচ দেওয়া হয়েছে। তারা দ্রুত সেরে উঠবেন।

ওসি সুজন মিঞা বলেন, নারী ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে কয়েকজন আহত হয়েছেন। তদন্ত করে উস্কানিদাতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ইউএনও অমিত রায় বলেন, আহতদের আমরা হাসপাতালে দেখে এসেছি, তাদের সুচিকিৎসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Visited 119 times, 1 visit(s) today