সংবাদ প্রতিবেদন
দেশজুড়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরম অবনতি ঘটেছে। যেন লাশের বাম্পার ফলন ঘটেছে। মাঠে-ঘাটে, নদীতে তো বটেই এমনকি গাছেও ঝুলছে লাশ। এ পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ শঙ্কিত। ঘর থেকে বের হলে অক্ষত অবস্থায় ফিরতে পারবে কিনা, এ নিয়ে চিন্তিত থাকেন পরিবারের সদস্যরা। প্রিয়জন ফিরে না আসা পর্যন্ত চিন্তামুক্ত হতে পারেন না কেউ। গত দুদিনের ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায় পরিস্থিতি দিন দিন খারাপের দিকেই যাচ্ছে।
ঢাবিতে গাছে ঝুলন্ত মরদেহের রহস্য
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের পাশে একটি মেহগনি গাছে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় আবু সালেহ (৪৫) নামের এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এটি হত্যা না আত্মহত্যা, তা নিশ্চিত হতে তদন্ত চলছে।
হাটহাজারীতে ধর্ষণের পর হত্যার সন্দেহ
চট্টগ্রামের হাটহাজারীর জঙ্গলে পোড়ানো অবস্থায় এক নারীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের ধারণা, ধর্ষণের পর তাকে হত্যা করা হয়েছে। অজ্ঞাত এই নারীর পরিচয় ও ঘটনার পেছনের রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে।
টাঙ্গাইলে লেবুর বাগানে ব্যবসায়ীর গলা কাটা লাশ
টাঙ্গাইলের সখীপুরে আব্দুস সালাম মিয়া (৫০) নামে এক ব্যবসায়ীর গলা কাটা লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ হন। সকালে তার লাশ স্থানীয় লেবু বাগানে পাওয়া যায়।
সাভারের খামারে শ্রমিকের গলাকাটা লাশ
সাভারে কেন্দ্রীয় গো প্রজনন ও দুগ্ধ খামারের পাশে মাহফুজুর রহমান রাজু (৪৫) নামের এক শ্রমিকের লাশ পাওয়া গেছে। তিনি কাজ শেষে বাসায় ফেরেননি। তার মরদেহের পাশে কোনো আলামত পাওয়া যায়নি, ফলে হত্যা রহস্য নিয়ে চলছে তদন্ত।
বগুড়ায় গাছে অর্ধ-ঝুলন্ত লাশ
বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় ফিরোজ শাহ (৩৫) নামে এক ডেকোরেটর ব্যবসায়ীর অর্ধ-ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশ গাছে ঝুললেও তার দুই পা মাটিতে ঠেকে ছিল, যা আত্মহত্যার ধারণাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
সাধারণ মানুষের উদ্বেগ ও আইন-শৃঙ্খলার ব্যর্থতা
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে মানুষ ঘর থেকে বের হতেও শঙ্কা বোধ করছে। একের পর এক লাশ উদ্ধার, রহস্যজনক হত্যাকাণ্ড এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রমের সীমাবদ্ধতা সাধারণ মানুষের মনে আস্থা হারিয়েছে।
এই পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া না হলে দেশে ভয়াবহ অরাজকতা দেখা দিতে পারে বলে বিশ্লেষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
