ঢাকা: পুলিশ প্রশাসন সংস্কারের জন্য গঠন করা কমিশন তাদের সুপারিশগুলো জমা দিয়েছে। বুধবার প্রধান উপদেষ্টার কাছে কমিশনের প্রধান সরফরাজ হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের সংস্কারের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ জমা দেওয়া হয়।
পুলিশের কার্যক্রমে ইচ্ছাকৃত ব্যাত্যয় বা পেশাদারী দুর্নীতি রোধে স্বল্পমেয়াদী একটি কার্যক্রম হিসাবে “ওয়াচডগ বা ওভারসাইট কমিটি” গঠন করার সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতিটি থানা/উপজেলায় একটি সর্বদলীয় কমিটি গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে যারা স্থানীয় পর্যায়ে “ওভারসাইট বডি” হিসাবে কাজ করবে এবং দুর্ণীতি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে।

পুলিশ সংস্কার কমিশন পুলিশ বাহিনীর বিভিন্ন কার্যক্রমে পরিবর্তন আনার জন্য বেশ কিছু সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে অন্যতম, ভুয়া বা গায়েবি মামলায় নাগরিকের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়ার প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তাব। এছাড়া, ‘অজ্ঞাতনামা আসামি’ করার চর্চা বন্ধ করার জন্যও সুপারিশ করা হয়েছে।
আইন প্রয়োগকারি সংস্থা কর্তকৃ মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত করার জন্য সরাসরি সমস্ত পদক্ষেপ নেয়ার ক্ষমতা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের উপরে ন্যাস্ত করার সুপারসিহ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী ও স্বাক্ষী সুরক্ষার জন্য একটি আইন প্রণয়নের কথা বলা হয়েছে এই সুপারিশে, যা জনবান্ধব পুলিশিং নিশ্চিত করতে সহয়তা করবে বলে মতামত দেয়া হয়েছে।
কমিশন আরো বলেছে, আটক-গ্রেপ্তার, তল্লাশি, এবং জিজ্ঞাসাবাদের বিধি-প্রণালীতে পরিবর্তন আনার প্রয়োজন রয়েছে। পুলিশ সংস্কারের অংশ হিসেবে, চাকরিপ্রার্থীদের স্থায়ী ঠিকানা অনুসন্ধানে এনআইডির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার প্রথা বাতিল করারও সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া, চাকরি প্রার্থীদের ভেরিফিকেশনের ক্ষেত্রে পুলিশকে যুক্ত না করার এবং রাজনৈতিক মতাদর্শ যাচাই না করার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।
অপরাধীদের সন্ধানে পুলিশ যদি তাদের পরিচয় দিতে অস্বীকার করেন বা সার্চ ওয়ারেন্ট না থাকে, তবে জরুরি সার্ভিসে ফোন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে, রাতের বেলায় তল্লাশির ক্ষেত্রে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, জনপ্রতিনিধি কিংবা সাংবাদিকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করারও সুপারিশ করেছে কমিশন।
পুলিশ সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন হলে, পুলিশের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা এবং জনগণের অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।
