জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুর্নীতি মামলা থেকে খালেদা জিয়াসহ সবাইকে খালাস

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুর্নীতি মামলা থেকে খালেদা জিয়াসহ সবাইকে খালাস
শেয়ার করুন
সংবাদ প্রতিবেদন

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিচারিক আদালত ও হাইকোর্টের রায় বাতিল করেছে আপিল বিভাগ।

এই রায়ের মাধ্যমে বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া হাইকোর্টে ঘোষিত ১০ বছরের কারাদণ্ড থেকে মুক্তি পেলেন। একই সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ অন্যান্য আসামিদেরও খালাস দিয়েছে আদালত, যদিও তাদের আপিল করার প্রয়োজন হয়নি রায়ের প্রেক্ষিতে।

বুধবার, ১৫ই জানুয়ারি, প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতির একটি বেঞ্চ সর্বসম্মতিতে এই রায় প্রদান করেন। আদালত খালেদা জিয়ার আপিল মঞ্জুর করে এই রায় দেন।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত উল্লেখ করেছেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এই মামলা “প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে” করা হয়েছিল।

রায় ঘোষণার পর খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা সর্বোচ্চ আদালতে ন্যায়বিচার পেয়েছি।”

মামলার অন্য আসামিদের পরিচয়:

  • সাবেক মুখ্যসচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী
  • সাবেক সংসদ সদস্য ও ব্যবসায়ী কাজী সালিমুল হক কামাল
  • ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ
  • জিয়াউর রহমানের ভাগনে মমিনুর রহমান

পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান, কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী এবং মমিনুর রহমান।

আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন:

জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, অ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম সজল, অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম, ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীম, অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান খান, অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন, অ্যাডভোকেট ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া, ব্যারিস্টার সানজিদ সিদ্দিকী, অ্যাডভোকেট মাকসুদ উল্লাহ ও অ্যাডভোকেট আজমল হোসেন খোকন।

খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানিতে বলা হয়, হাইকোর্ট বিভাগের রায়ে আইনের গুরুতর ব্যত্যয় ঘটেছে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের অর্থ আত্মসাতের যে অভিযোগ আনা হয়েছে, সেই অর্থ এখনও অ্যাকাউন্টে সুরক্ষিত আছে। এ রায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে খালেদা জিয়াকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে দেওয়া হয়েছিল।

অন্যদিকে, দুদকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আসিফ হোসাইন এবং রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক।

এর আগে গত মঙ্গলবার, ১৪ই জানুয়ারি, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ১০ বছরের সাজার বিরুদ্ধে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার আপিলের শুনানি চার কার্যদিবসে শেষ হয়। এ মামলার রায় ঘোষণার জন্য বুধবার দিন নির্ধারণ করা হয়।

এর আগে, ৭ই জানুয়ারি থেকে আপিল বিভাগের শুনানি শুরু হয়, যেখানে খালেদা জিয়ার সাজার আপিল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

গত বছরের ১১ই নভেম্বর, এই মামলায় ১০ বছরের সাজার বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে করা আবেদন) মঞ্জুর করে আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে আদালত তার সাজার কার্যকারিতা স্থগিত করে। তখন সর্বোচ্চ আদালত খালেদা জিয়াকে নির্দেশ দেন, আপিলের সারসংক্ষেপ দুই সপ্তাহের মধ্যে জমা দিতে।

এই আদেশ দেন আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ।

এর আগে, গত বছরের ৩রা নভেম্বর, চেম্বার আদালত এই মামলায় খালেদা জিয়ার লিভ টু আপিলের শুনানির জন্য ১০ই নভেম্বর দিন ধার্য করেন।

২০১৮ সালের ৮ই ফেব্রুয়ারি, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক আখতারুজ্জামান। এ মামলায় ট্রাস্টের নামে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়।

একই মামলায় খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানসহ অপর পাঁচ আসামিকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে ২ কোটি ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

বিচারিক আদালতের এই রায়ের পর খালেদা জিয়া, কাজী সালিমুল হক কামাল এবং ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ হাইকোর্টে আপিল করে খালাসের আবেদন করেন।

পরে, ২০১৮ সালের ৩০শে অক্টোবর, হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ খালেদা জিয়ার সাজা বাড়িয়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন।

এই রায়ের বিরুদ্ধে পরবর্তীতে খালেদা জিয়া লিভ-টু আপিল করেন আপিল বিভাগে।

Visited 33 times, 1 visit(s) today