কারাগারে আরও এক আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু, বাড়ছে লাশের মিছিল

কারাগারে আরও এক আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু, বাড়ছে লাশের মিছিল
শেয়ার করুন
সংবাদ প্রতিবেদন

কারাবন্দী অবস্থায় আওয়ামী লীগ নেতাদের মৃত্যুর মিছিল যেন থামছেই না। দেশের কয়েকটি কারাগারে বন্দী অবস্থায় আওয়ামী লীগ নেতাদের মৃত্যুর মিছিলে এবার যুক্ত হলেন নীলফামারী জেলার এক যুবলীগ নেতা।

আজ মঙ্গলবার ১৪ই জানুয়ারি ভোর ৪টায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন নীলফামারী জেলা কারাগারে থাকা যুবলীগ নেতা মমিনুর ইসলাম (৫০)। তিনি উক্ত কারাগারে হাজতি (৩৫৩৫/২৪) হিসেবে বন্দী ছিলেন।

মমিনুর ইসলাম নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার মীরগঞ্জ ইউনিয়নের পূর্ব শিমুলবাড়ি এলাকার দেওয়ানটারী গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে। তিনি মীরগঞ্জ ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের যুবলীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন।

জুলাই-আগস্টের সরকারবিরোধী আন্দোলনে নাশকতা চালিয়েছেন, এমন অভিযোগে দায়েরকৃত দুটি মামলায় গত ১২ই ডিসেম্বর থেকে নীলফামারী জেলা কারাগারে হাজতি হিসেবে বন্দী ছিলেন।

পড়ুন: পাঁচ মাসে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, নিপীড়নের ভয়াবহ চিত্র মানবাধিকার প্রতিবেদনে

কারা কর্তৃপক্ষের দাবি, মমিনুর ইসলাম অ্যাজমা রোগে ভুগছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত ৭ই জানুয়ারি তাকে নীলফামারী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ৮ই জানুয়ারি সন্ধ্যায় তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

জেল সুপার রফিকুল ইসলাম জানান, চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার ভোর ৪টায় মমিনুর ইসলাম মৃত্যুবরণ করেন।

যদিও পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন, মমিনুর ইসলামের অ্যাজমার সমস্যা ছিল না। কারাগারে তাকে ঠান্ডা মেঝেতে কম্বল ছাড়া শুতে বাধ্য করা হয়েছিল। কারা কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার কম্বল চেয়েও পাননি তিনি।

কারাগারে এভাবে পরিকল্পিতভাবে আওয়ামী লীগ নেতাদের রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। এখন মানবাধিকার সংগঠনগুলো কোথায়- এমন প্রশ্ন তুলে এই ‘হত্যাকাণ্ডের’ বিচার দাবি করেছেন তারা।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে বিকাল ৪টার দিকে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। সেখানেই পরিবারের সদস্যরা এমন ক্ষোভ জানান।

এদিকে সুরক্ষিত কারা-অভ্যন্তরে একের পর এক আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যুর খবরে জনমনে জন্ম দিয়েছে নানা প্রশ্নের। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে আশঙ্কাজনক তথ্য।

পড়ুন: একমাসে বগুড়া কারাগারে ৪ নেতার মৃত্যুতে আওয়ামী লীগের উদ্বেগ

মানবাধিকার লঙ্ঘন বিষয়ে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দেশের বিভিন্ন কারাগারে অসুস্থতাসহ বিভিন্ন কারণে ৬৫ জন বন্দির মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ২৩ জন কয়েদি এবং ৪২ জন হাজতি। বিশেষত বগুড়া কারাগারে আওয়ামী লীগ নেতাদের কথিত হৃদরোগে মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত তদন্তের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।

পড়ুন: কারাগারে শ্রমিক লীগ নেতার মৃত্যু

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ১১ই নভেম্বর থেকে ৯ই ডিসেম্বরের মধ্যে মাত্র ২৯ দিনের ব্যবধানে বগুড়া কারাগারে ৪ জন আওয়ামী লীগ নেতা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তারা হলেন-

► ২৬শে নভেম্বর: শাহাদত আলম (৫৭), বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।
► ২৫শে নভেম্বর: আবদুল লতিফ (৬৭), শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ।
► ১১ই নভেম্বর: শহিদুল ইসলাম (৫৮), বগুড়া পৌরসভার ১৫নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।
► ৯ই ডিসেম্বর: আব্দুল মতিন ওরফে মিঠু (৬৫), গাবতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য।

এই মৃত্যুগুলোতে ‘হৃদরোগ’ উল্লেখ করা হলেও, এমন ‘ধারাবাহিকতায়’ সন্দেহ দানা বেঁধেছে এবং ঘটনাগুলো নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছে মানবাধিকার সংগঠনটি।

আসক-এর প্রতিবেদন প্রকাশের পর গত ১০ই জানুয়ারি গাজীপুর জেলা কারাগারে বন্দী অবস্থায় মারা যান শ্রীপুর উপজেলার শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ জহিরুল ইসলাম (৪৬)। তার মৃত্যুর কারণ হিসেবেও ‘হৃদরোগ’ উল্লেখ করেছে কারা কর্তৃপক্ষ।

Visited 1,115 times, 1 visit(s) today