জার্মান আওয়ামিলীগের নেতা কর্মিদের তোপের মুখে হাসান মাহমুদ

জার্মান আওয়ামিলীগের নেতা কর্মিদের তোপের মুখে হাসান মাহমুদ
শেয়ার করুন

আওয়ামিলীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার সাথে জার্মান আওয়ামিলীগের আয়োজিত টেলিকনফারেন্সে যোগ দিয়েছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ। তিনি বেলজিয়ামে অবস্থান করলেও, এই সভা উপলক্ষে জার্মানিতে আসেন।

৫৪ তম বিজয় দিবস এবং বাংলাদেশে আওয়ামিলীগের নেতাকর্মিদের উপর জুলুম নির্যাতনের প্রতিবাদে জার্মানির কোলন শহরে জার্মান আওয়ামিলীগ এই সভার আয়োজন করে। সভায় আওয়ামিলীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা প্রায় চল্লিশ মিনিট ব্যাপি ফোনে নেতা কর্মিদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন ও  বাংলাদেশে হওয়া জুলুম ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার নির্দেশনা প্রদান করেন।

উক্ত অনুষ্ঠানে যোগদান করতে এসে জার্মান আওয়ামিলীগের নেতা কর্মিদের তোপের মুখে পড়েন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ন-সাধারন সম্পাদক হাসান মাহমুদ। প্রায় ১০/১২ জন নেতা কর্মি আওয়ামিলীগের বর্তমান দুর্দশা এবং দূর্নিতীর জন্য হাসান মাহমুদকে সরাসরি দায়ী করেন।

ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সম্মেলনে উপস্থিত নেতা কর্মিরা জানান,

“আপনাদের লোভ আর দুর্নীতি’র কারনেই দেশে থাকা আওয়ামিলীগের নেতা কর্মিরা আজকে দুর্বিসহ জীবন যাপন করছে, হুমকির মুখে আছে সবার জীবন। আহত নিহত নেতা কর্মিদের কোন খোজ খবর আপনি রাখেন নাই। যাকে ইচ্ছা তাকে দলে ঢুকিয়েছেন। আপনাদের দুর্নীতি’র দায়ে দল আজ বিপর্যস্থ”

হাসান মাহমুদ এসকল অভিযোগ আর ক্ষোভের কোন প্রতিক্রিয়া দেখান নাই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করেন জার্মান আওয়ামিলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান। তিনি হাসান মাহমুদকে ক্ষুব্ধ নেতাকর্মিদের থেকে সরিয়ে এনে বিশেষ অতিথিদের টেবিলে বসান। অনুষ্ঠানে বাকি পুরাটা সময় হাসান মাহমুদ সেই চেয়ারেই বসে থেকে শেখ হাসিনার বক্তব্য শোনেন।

আনুষ্ঠানে আগতদের সাথে কথা বলে জানা যায়, অনুষ্ঠান শেষ করে হাসান মাহমুদ জার্মান আওয়ামিলীগের সভাপতির সাথে হাত মিলিয়ে নীরবে সভাস্থল ত্যাগ করেন।

আওয়ামিলীগের যে সকল নেতাদের নিয়ে দলের বাকি নেতা কর্মিরা অসন্তুষ্ট, তাদের মধ্যে হাসান মাহমুদ অন্যতম। তিনি বেলজিয়াম থাকা অবস্থায় আওয়ামিলীগের সভা নেত্রী শেখ হাসিনার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেন, কিন্তু আওয়ামিলীগের সভানেত্রী হাসান মাহমুদের সাথে কথা বলতে রাজী হন নাই। এমন শোনা গিয়েছিল যে আওয়ামিলীগের সভানেত্রীর সাথে দেখা করতে হাসান মাহমুদ দিল্লী আসতে চেয়েও শেখ হাসিনার অনুমতি পান নাই।

৫ আগস্ট আওয়ামিলীগের সরকার পতনের পর প্রাথমিক অবস্থায় হাসান মাহমুদ ক্যান্টনমেন্টে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তারপর পরিস্থিতি শান্ত হলে কোনভাবে নিরাপত্তা বাহিনীকে ম্যানেজ করে ঢাকা এয়ারপোর্ট দিয়ে বাংলাদেশ ত্যাগ করেন। গত নভেম্বরে লন্ডনের একটি অনলাইন টিভিতে সাক্ষাৎকার দিতে শেষবার হাসান মাহমুদ কে দেখা গিয়েছিল।

 

Visited 584 times, 1 visit(s) today