বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) এর উদ্বেগ

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) এর উদ্বেগ
শেয়ার করুন

বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF)-এর মিশন প্রধান ক্রিস পাপাজিওর্জিও বলেছেন যে, দেশের মুদ্রাস্ফীতি শিগগিরই কমার কোনো আশার সম্ভাবনা নেই। বৃহস্পতিবার, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে একটি ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, মুদ্রাস্ফীতির উত্থান দুটি প্রধান কারণে ঘটছে: সরবরাহ পক্ষের সমস্যা এবং চাহিদা পক্ষের সমষ্টিগত চাপ। তিনি আরও বলেন, “খাদ্য মুদ্রাস্ফীতির কারণে সরবরাহ সংকট সৃষ্টি হয়েছে এবং কাঠামোগত সমস্যাগুলো মুদ্রাস্ফীতি বাড়িয়ে দিচ্ছে। একইসাথে, চাহিদা বৃদ্ধির কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে।”

পাপাজিওর্জিও জানিয়েছেন, মুদ্রাস্ফীতি এখনও তাদের পূর্বাভাসের তুলনায় অনেক বেশি, যার ফলে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে গেছে। IMF-এর গত পূর্বাভাসে ২০২৫ অর্থবছরের প্রবৃদ্ধি ৬.৬% ছিল, কিন্তু এখন তা কমে ৩.৮% হয়েছে, যা একটি বড় পার্থক্য।

তিনি সতর্ক করে বলেন, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি দেশের ব্যাংকিং খাতের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে, বিশেষ করে অ-performing ঋণের পরিমাণ। IMF এই বিষয়ে তার উদ্বেগ জানিয়েছে এবং বলেছে যে, সরকারকে ব্যাংকিং খাতের সংস্কারের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। ক্রিস পাপাজিওর্জিও বলেন, “বাংলাদেশে ব্যাংকিং খাতের আস্থার সংকট রয়েছে এবং IMF এসব সমস্যা চিহ্নিত করতে সহায়তা করছে।”

IMF মিশন প্রধান আরও বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক চাপটি সম্পূর্ণভাবে অভ্যন্তরীণ কারণে নয়, বরং বিদেশী মুদ্রা সংকট, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব, এবং জুলাই-আগস্ট মাসে বন্যার কারণে অনেক বড় ধাক্কা খেয়েছে। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ যখন IMF-এর সাথে চুক্তি শুরু করেছিল, তখন আমরা এইসব সমস্যার মুখোমুখি হয়নি।”

তিনি সরকারের প্রতি বেশ কিছু পরামর্শও দিয়েছেন। এসব পরামর্শের মধ্যে রয়েছে পণ্যের মূল্য কমানো, ট্যাক্স অবকাশ তুলে নেওয়া, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো, অর্থের সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করা, এবং মুদ্রার বিনিময় হারকে আরও নমনীয় করা।

বছরের শেষ দিকে IMF বাংলাদেশকে তাদের ঋণ কিস্তির পরিমাণ ঘোষণা করেছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশকে ৪.৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণের চতুর্থ কিস্তি হিসেবে ৬৪৫ মিলিয়ন ডলার দেওয়া হবে। এছাড়া, অতিরিক্ত ৭৫০ মিলিয়ন ডলার ঋণ থেকে ৮০ মিলিয়ন ডলার দেওয়া হবে ২০২৫ সালের জুন মাসে।

ক্রিস পাপাজিওর্জিও আশা প্রকাশ করেছেন যে ২০২৬ সালের মধ্যে পরিস্থিতি কিছুটা ভালো হতে পারে এবং মুদ্রাস্ফীতি কমতে শুরু করবে। তবে, এজন্য সরকারের আরো কিছু জরুরি সংস্কার কার্যকর করতে হবে।

এছাড়া, IMF বলেছে যে বাংলাদেশের ট্যাক্স রাজস্ব খুবই কম এবং এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে ফিসক্যাল সংস্কারের জন্য আরও তৎপর হতে হবে।

এখনো বাংলাদেশের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তবে IMF আশাবাদী যে আগামী বছর অর্থনীতির পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি করবে।

Visited 37 times, 1 visit(s) today