সাংবাদিকদের বাতিল অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড পুনর্বিবেচনা করবে সরকার, তবে…

সাংবাদিকদের বাতিল অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড পুনর্বিবেচনা করবে সরকার, তবে…
শেয়ার করুন
সংবাদ প্রতিবেদন

অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিল হওয়া সাংবাদিকদের লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কার্ড “পুনর্বিবেচনা” করা হতে পারে বলে জানিয়েছে তথ্য অধিদপ্তর।

বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) তথ্য অধিদপ্তর এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, বাতিল হওয়া কার্ড “প্রযোজ্য ক্ষেত্রে” পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কোনো পেশাদার সাংবাদিক যদি কার্ড বাতিলের বিষয়টি “ন্যায়সঙ্গত” মনে না করেন, তবে তিনি লিখিতভাবে কর্তৃপক্ষকে জানাতে পারবেন।

এর আগে কয়েক দফায় ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ আখ্যা দিয়ে বহু সাংবাদিকের অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিল করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে ইউনূস সরকার। সাংবাদিকদের জন্য বাংলাদেশকে তৃতীয় বিপজ্জনক স্থান হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে আন্তর্জাতিক সংগঠন রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস (আরএসএফ)।

এরপরই ইউনূস সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্ত এলো।

সাংবাদিকের অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিলের কারণ হিসেবে ইউনূস সরকারের তথ্য অধিদপ্তর নানাবিধ কারণ দেখিয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে- দীর্ঘদিন কার্ড নবায়ন না করা, সংশ্লিষ্ট হাউজের কোটার অতিরিক্ত কার্ড নেওয়া, অপসাংবাদিকতা, আওয়ামী লীগ সরকারের রাজনৈতিক হাতিয়ার হয়ে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল, ফৌজদারি মামলার আসামি, বিভিন্ন কারণে গ্রেপ্তার ও কারান্তরীণ, অপেশাদার ব্যক্তির রাজনৈতিক বিবেচনায় কার্ড নেওয়া, সরকারি প্রতিষ্ঠানের তথ্য পাচার ও প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ডের অপব্যবহার ইত্যাদি।

এছাড়া জুলাই-অগাস্টে সরকারবিরোধী আন্দোলনে “নেতিবাচক ভূমিকা ও উসকানি দেওয়া”, “আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ দোসর”, গুজব রটনার মতো বিষয়গুলো কার্ড বাতিলের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছিল।

যদিও এসব কারণ দেখিয়ে সাংবাদিকদের “ট্যাগ” দিয়ে অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিল করাকে মুক্ত-স্বাধীন সাংবাদিকতায় হস্তক্ষেপ এবং গণমাধ্যমের চিন্তা-ভাবনার পথ রুদ্ধ করা বলে আখ্যা দিয়েছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা। এমনকি সাংবাদিকদের ‘চিহ্নিত’ করে কারাবন্দী করাকেও স্বাধীন সাংবাদিকতার অন্তরায় বলে আখ্যা দিয়েছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো।

এদিকে, অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড পুনর্বিবেচনাকে ‘শর্তহীন’ হতে হবে দাবি তুলেছেন ভুক্তভোগী সংবাদিকরা। নির্দিষ্ট ‘ফর্মূলা’ অনুসরণ করতে হবে কিংবা অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বহাল রাখতে হলে ‘ওপর মহলের’ নির্দেশনা শুনতে হবে- এমন শর্ত যেন না থাকে, দাবি সাংবাকিদের।

Visited 58 times, 1 visit(s) today