প্রতিবেদক:
বাংলাদেশের বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত এবং ইসকনের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সংগঠক চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর বিরুদ্ধে বিচারিক হয়রানির নিন্দাজ্ঞাপন করেছে অস্ট্রেলিয়ার ২৫টি সংস্থা।
এ নিয়ে ২৫টি সংস্থার জোটবদ্ধ সংগঠনটি একটি সমাবেশের আয়োজন করে ১০ই নভেম্বর।
সংগঠনটি বাংলাদেশি জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সমর্থনকারী সংগঠন অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেশন অব এথনিক অ্যান্ড রিলিজিয়াস মাইনরিটিস ইন বাংলাদেশ (এএফইআরএমবি) এর মাধ্যমে তাদের অবস্থান প্রকাশ করেছে।
এএফইআরএমবি জানিয়েছে, বাংলাদেশের জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় কাজ করে যাওয়া সম্মানিত ব্যক্তি ও সংগঠনগুলোর কণ্ঠরোধ করার প্রচেষ্টা হিসেবে এই মামলাগুলোকে দেখা হচ্ছে।
সমাবেশের বক্তারা বলেন, আমরা সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। বাংলাদেশের এই সম্মানিত নেতৃবৃন্দ, মানবাধিকার কর্মী এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের নাগরিকদের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। আমরা এই বিচারিক হয়রানির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
বিবৃতিতে তারা বাংলাদেশ সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি সংখ্যালঘু অধিকার কর্মীদের হয়রানি বন্ধের আহ্বান জানান।
জাতীয় হিন্দু মহাজোট এক পরিসংখ্যানের মাধ্যমে উল্লেখ করেছেন, ৫ই আগস্টের পর ৪৮টি জেলায় ২৭৮টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ জানায়, ৫২টি জেলায় অন্তত ২০৫টি সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে।
বাংলাদেশের দুটি বেসরকারি গবেষণা সংস্থা তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, দেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতার ৭০ ভাগই জমিজমা জোরপূর্বক দখল ও উচ্ছেদ কেন্দ্রিক। আর এসব সহিংসতার বহিঃপ্রকাশ ঘটে সংখ্যালঘুদের বিষয়সম্পদ বা ধর্মীয় উপাসনালয় ধ্বংসের মাধ্যমে।
প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন, মানবাধিকার কর্মী ও ধর্মীয় নেতাদের ভয় দেখানো ও হুমকি দেয়ার জন্য বিচারিক প্রক্রিয়ার অপব্যবহারের মাধ্যমে তাদের হয়রানি করা হচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ার ২৫টি সংস্থার জোটবদ্ধ এই সংগঠনটি বাংলাদেশ সরকারকে এ পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য আহ্বান জানিয়ে বলে, আমরা বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করছি যাতে তারা আইনের শাসন রক্ষায় ভূমিকা রাখে এবং এসব মানবাধিকার কর্মী ও ধর্মীয় নেতাদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করে।
অস্ট্রেলিয়ার এই ২৫টি সংস্থার এমন অবস্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানবাধিকার কর্মীদের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন আরও শক্তিশালী হলো বলে করছেন বিশ্লেষকরা।
