❐ আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের স্বার্থে আঘাত না করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে বেইজিং, ঠিক যেদিন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ ফিজির সঙ্গে একটি যুগান্তকারী সামরিক জোট চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি অঞ্চলের নিরাপত্তা কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে এবং আরও একাধিক প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশকে এর আওতায় টেনে আনতে পারে।
সোমবার সকালে অ্যালবানিজ ও তার ফিজীয় প্রতিপক্ষ সিতিভেনি রাবুকা মাসব্যাপী গোপন আলোচনার পর “ওশান অব পিস অ্যালায়েন্স” এবং “ভুভালে ইউনিয়ন” নামের চুক্তি দুটি প্রকাশ্যে ঘোষণা করেন। এই চুক্তির আওতায় ফিজি অস্ট্রেলিয়ার চতুর্থ আনুষ্ঠানিক মিত্র দেশে পরিণত হচ্ছে।
উভয় দেশ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তাদের মধ্যে কেউ সামরিক আক্রমণের শিকার হলে নিজ নিজ দেশের প্রচলিত প্রক্রিয়া মেনে “সাধারণ বিপদ মোকাবিলায় পদক্ষেপ” নেবে।
রাবুকা জানিয়েছেন, অঞ্চলের আরও অনেক দেশ চাইলে এই জোটে যোগ দিতে পারবে, যদিও অস্ট্রেলিয়া প্রাথমিকভাবে শুধু নিয়মিত সেনাবাহিনী থাকা দেশগুলোর দিকেই মনোযোগ দিতে চাইছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের সামরিক উপস্থিতি ঠেকাতে এবং নিজেদের কৌশলগত অবস্থান সুসংহত করতে অস্ট্রেলিয়া যেসব চুক্তির জাল তৈরি করছে, এই নতুন জোট তারই একটি অংশ।
ফিজির রাজধানী সুভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় রাবুকা চীনের পক্ষ থেকে কোনো তীব্র প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে বলেন, তিনি মনে করেন না বেইজিং এর তীব্র বিরোধিতা করবে, বরং উভয় দেশের এই সমঝোতাকে চীন স্বাগত জানাবে বলেই তার বিশ্বাস।
তবে সোমবার সন্ধ্যায় চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং এক শীতল প্রতিক্রিয়ায় জানান, চীন কোনো ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা বা স্বার্থপর রাজনৈতিক খেলায় জড়ায় না।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট দেশ যেন প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর স্বাধীনতাকে প্রকৃত অর্থেই সম্মান জানায়, তাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ টেকসই ভবিষ্যতের ওপর গুরুত্ব দেয়, এবং কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্যবস্তু করা বা তাদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করা থেকে বিরত থাকে।
ফিজি সরকারের এক সূত্র এবিসি নিউজকে জানিয়েছে, তারাও ধারণা করছে এই চুক্তিতে চীন অসন্তুষ্ট হতে পারে, তবে ফিজি এই জোট নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে ওই সূত্র জানিয়েছে।
নিউজিল্যান্ড ইতিমধ্যে এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে, যদিও জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়ে তারা এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করেনি।
দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেছেন, প্রশান্ত মহাসাগরীয় নেতাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিচালনার দায়িত্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোরই হাতে থাকা উচিত, আর নতুন এই জোট সেই নীতিকেই আরও জোরদার করছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ফিজি-অস্ট্রেলিয়া চুক্তি স্বাক্ষরের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রশান্ত মহাসাগরে চীন একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালায়।
এদিকে অস্ট্রেলিয়ার স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের অংশ হিসেবে সলোমন দ্বীপপুঞ্জের রাজধানী হোনিয়ারায় সংক্ষিপ্ত সফরে যাওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী অ্যালবানিজের দেশটির প্রধানমন্ত্রী ম্যাথু ওয়েলের সঙ্গে এই নতুন জোট নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ওয়েল দীর্ঘদিন ধরে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোর জন্য নিজস্ব একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা চুক্তির প্রস্তাব নিয়ে কাজ করে আসছেন, যদিও রাবুকা ও অ্যালবানিজের ঘোষিত চুক্তির সঙ্গে তার এই পরিকল্পনা কীভাবে সাযুজ্যপূর্ণ হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়।
