❐ আন্তর্জাতিক ডেস্ক
শ্রীলঙ্কার নেগম্বো কারাগারে দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী মাদক চক্রের বন্দিদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ২৩ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ছয়জন কারারক্ষী রয়েছেন। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও শতাধিক মানুষ।
গত কয়েক বছরের মধ্যে দেশটির সবচেয়ে প্রাণঘাতী কারা-দাঙ্গা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এই ঘটনা।
পুলিশের তথ্যমতে, কাটা ও গুলিবিদ্ধ আঘাত নিয়ে সোমবার রাজধানী কলম্বোর উত্তরে অবস্থিত নেগম্বো হাসপাতালে দ্রুত নেওয়া হয় আহতদের। রোববার সন্ধ্যায় হাজার হাজার বন্দি ধারণকারী নেগম্বো কারাগারে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় বলে জানানো হয়েছে।
দেশটির বিচারমন্ত্রী হর্ষণা নানায়াক্কারা গভীর মর্মাহত ও শোকপ্রকাশ করে জানান, প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দলকে আলাদা করার জন্য কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।
তিনি বলেন, বন্দিরা অপরাধ জগতের সঙ্গে যুক্ত থাকুক বা না থাকুক, এই মুহূর্তে সেটি বিবেচ্য বিষয় নয়—মানুষ মারা গেছে, এবং এমন ঘটনা কখনোই ঘটা উচিত ছিল না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
কারা কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র চামিন্দা গজানায়েকে জানান, সোমবার সকালে নাশতার সময় কিছু বন্দি সশস্ত্র প্রহরীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়, আর কেউ কেউ প্রধান ফটক দিয়ে পালানোর চেষ্টা চালায়।
তবে কর্তৃপক্ষ তাদের ঠেকাতে সক্ষম হয় বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান।
সংঘর্ষের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কারাগারের সংলগ্ন একটি অংশে থাকা নারী বন্দিরা মুক্তি দাবি করে ছাদে উঠে পড়েন। এ সময় ছাদের একাংশ ধসে পড়লে কয়েকজন নারী আহত হন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
কারাগার ঘিরে বন্দিদের স্বজনদের বিশাল ভিড় জমে যাওয়ায় নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশ ও কমান্ডো মোতায়েন করা হয়।
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে বিমানবাহিনী ড্রোন ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করে এলাকাটির ওপর নজরদারি চালায়। কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, কিছু বন্দিকে ইতিমধ্যে অন্য কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে।
সরকার পরিচালিত হাসপাতালটির পরিচালক পুষ্পা গামলাথ জানান, নেগম্বো কারাগার থেকে আসা ২৩টি মরদেহ তাদের হাসপাতালে রাখা হয়েছে এবং শতাধিক আহত বন্দি ও প্রহরী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তিনি বলেন, আহতদের মধ্যে কারও শরীরে গুলির ক্ষত, কারও গায়ে গভীর কাটা ও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এদের মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর অবস্থায় থাকা ১৮ জনকে কলম্বো জাতীয় হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ডিসেম্বরে করোনা মহামারির চরম পর্যায়ে শ্রীলঙ্কার আরেকটি কারাগারে দাঙ্গায় ১১ জন বন্দি নিহত ও ১১৭ জন আহত হয়েছিলেন, যার জেরে ঘনবসতিপূর্ণ কারাগারগুলো থেকে শত শত বন্দিকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়েছিল সরকার।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, রোববার পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার কারাগারগুলোতে মোট ৪১ হাজার ২৫০ জন বন্দি ছিলেন, যা কারাগারগুলোর প্রকৃত ধারণক্ষমতার প্রায় চার গুণ।
