প্রতিবেদক:
সেন্ট মার্টিন দ্বীপ ভ্রমণে পর্যটকদের প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করেছে প্রশাসন।
দ্বীপে শুধুমাত্র স্থানীয় বাসিন্দাদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) দেখিয়ে যাতায়াতের অনুমতি থাকলেও সাধারণ পর্যটকরা প্রবেশ করতে পারছেন না। ভ্রমণের জন্য অনুমতি এবং এনআইডি বাধ্যতামূলক করায় পরিবার-পরিজনসহ অনেকেই সেন্ট মার্টিনের সৌন্দর্য উপভোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সেন্ট মার্টিনের রিসোর্ট মালিক মো. জসিম বলেন, দ্বীপের ১০ হাজার মানুষের জীবিকা পর্যটন খাতের উপর নির্ভরশীল। পর্যটকরা না আসলে আমাদের জীবন-জীবিকা বিপন্ন হয়ে পড়বে। পর্যটন যদি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকে, তাহলে দ্বীপ ছাড়তে বাধ্য হতে হবে মানুষ।
কোস্টগার্ডের স্টেশন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার এস এম রাশাদ হায়দার জানিয়েছেন, নিরাপত্তার স্বার্থে সেন্ট মার্টিনে পর্যটকদের প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে। আমাদের নির্দেশনা অনুযায়ী যারা জরুরি প্রয়োজনে আসেন, যেমন এনজিও কর্মী বা গবেষক, তাদের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। তবে বিনোদনমূলক ভ্রমণ এখনও নিষিদ্ধ।
এ ছাড়া কেউ অনুমতি ছাড়াই দ্বীপে প্রবেশ করলে তাদের ফেরত পাঠানো হবে বলেও জানান তিনি।
কক্সবাজার থেকে সেন্ট মার্টিনের সরাসরি জাহাজ যাতায়াত এখনো শুরু হয়নি।
সি ক্রুজ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর জানান, ইনানী জেটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেখান থেকেও জাহাজ চলাচল সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, জাহাজের যাতায়াত চালুর ঘোষণা থাকলেও বাস্তবে তা সম্ভব হচ্ছে না, এতে পর্যটন ব্যবসায় ক্ষতির মুখে পড়েছে।
পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, সেন্ট মার্টিন দ্বীপের ৪১% প্রবাল ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই হারে ক্ষয় চলতে থাকলে ২০৪৫ সালের মধ্যে প্রবালগুলো ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। পর্যটন চালু রাখা হলেও পরিবেশগত সুরক্ষার বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে।
সেন্ট মার্টিনের সাধারণ মানুষও পরিবারের সদস্যদের ভ্রমণের ক্ষেত্রে এনআইডি ও অনুমতির শর্তে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। দ্বীপের বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, এমন কড়াকড়ির কারণে তাদের আত্মীয়স্বজনও বেড়াতে আসতে পারছেন না।
দ্বীপের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে প্রশাসন এবং স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করছেন, সেন্ট মার্টিনের পরিবেশ রক্ষার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে পর্যটন বন্ধ না করেও দ্বীপটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়।
