ইসকন নিয়ে মাহমুদুর রহমানের উস্কানিমূলক বক্তব্য, ক্ষমা না চাইলে আইনি ব্যবস্থা

ইসকন নিয়ে মাহমুদুর রহমানের উস্কানিমূলক বক্তব্য, ক্ষমা না চাইলে আইনি ব্যবস্থা
শেয়ার করুন

প্রতিবেদক:

আন্তর্জাতিক কৃষ্ণ ভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সম্প্রতি সাংবাদিক ও দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

ইসকনের অভিযোগ, মাহমুদুর রহমান ইসকনের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন, যা সংগঠনটির ভাবমূর্তি এবং দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ইসকন এই আহ্বান জানায়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ইসকন বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক চারু চন্দ্র দাস ব্রহ্মচারী, যিনি লিখিত বক্তব্যে ইসকনের উদ্বেগ ও প্রতিক্রিয়া তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, “সম্প্রতি মাহমুদুর রহমানের পক্ষ থেকে আমাদের সংগঠনের বিরুদ্ধে হুমকি ও নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানানো হয়েছে, যা শুধু ইসকনের প্রতি নয় বরং বাংলাদেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি, সহনশীলতা ও সামাজিক ঐক্যের জন্যও ক্ষতিকর।”

চারু চন্দ্র দাস আরও উল্লেখ করেন, “আমরা মাহমুদুর রহমানের এই মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বক্তব্যের জন্য সাত দিনের মধ্যে ক্ষমা চাইতে বলছি। যদি তিনি তার বক্তব্য পরিহার করে জাতির কাছে দুঃখ প্রকাশ না করেন, তাহলে ইসকন তার বিরুদ্ধে কঠোর কর্মসূচি ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।”

সংবাদ সম্মেলনে ইসকনের পক্ষ থেকে বলা হয়, সম্প্রতি কিছু মহল ইসকনের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা করছে।

ইসকন দাবি করেছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রচারিত বিভ্রান্তিকর তথ্যগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যমূলক। বিশেষ করে, কিছু সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ইসকনের পতাকা নিয়ে যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে, তা সম্পূর্ণ অসত্য।

ইসকনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়, ইসকনের নিজস্ব কোনো পতাকা নেই এবং তারা কোনো ধরনের জাতীয় পতাকা অবমাননার সঙ্গেও জড়িত নয়।

চারু চন্দ্র দাস বলেন, “সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে আমাদের বিরুদ্ধে জাতীয় পতাকা অবমাননার যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর। ইসকন একটি ধর্মীয় সংগঠন, যার লক্ষ্য কৃষ্ণ ভাবনামৃত প্রচার ও সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা। আমাদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে কোনো ধরনের রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপের সুযোগ নেই।”

সংবাদ সম্মেলনে ইসকন বাংলাদেশ জানায়, তারা সংখ্যালঘুদের প্রতি যে ৮ দফা দাবি রয়েছে, তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।

ইসকনের পক্ষ থেকে বলা হয়, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য এবং ধর্মীয় সহিংসতা কমাতে তাদের দাবিগুলো গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

চারু চন্দ্র দাস এ প্রসঙ্গে বলেন, “বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায় অনেক ক্ষেত্রেই বৈষম্যের শিকার। আমরা সংখ্যালঘুদের দাবি-দাওয়ার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছি এবং আশা করছি, সরকার তাদের সমস্যাগুলো সমাধানে দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।”

ইসকনের কঠোর অবস্থান ও ভবিষ্যৎ কর্মসূচি

ইসকনের পক্ষ থেকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে যে, মাহমুদুর রহমান যদি ৭ দিনের মধ্যে ক্ষমা না চান, তাহলে তারা শুধু আইনি পদক্ষেপ নেবেন না, বরং কঠোর কর্মসূচিও ঘোষণা করবেন।

ইসকন নেতারা বলেন, তারা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং আইনগতভাবেই তাদের প্রতি হওয়া অন্যায়ের প্রতিকার চাইবেন।

চারু চন্দ্র দাস বলেন, “আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, কিন্তু কোনো মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ মেনে নেব না। মাহমুদুর রহমান যদি তার বক্তব্য প্রত্যাহার না করেন, আমরা বাধ্য হয়ে তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে যাব।”

ইসকনের এই ঘোষণা দেশের ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষার লক্ষ্যে উল্লেখযোগ্য।

ইসকনের দাবির সারসংক্ষেপ

১. মাহমুদুর রহমান ইসকনের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন, যা সংগঠনটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে।
২. ইসকন চাইছে, মাহমুদুর রহমান ৭ দিনের মধ্যে তাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে তার বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রত্যাহার করবেন।
৩. সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষায় ইসকন তাদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
৪. ইসকনের দাবি, তাদের নিজস্ব কোনো পতাকা নেই, ফলে জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।

ইসকনের এই আহ্বান ও কঠোর অবস্থান দেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি এবং সুশীল সমাজের প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বলে অভিমত সচেতন মহলের।

Visited 25 times, 1 visit(s) today