আবার ইনডেমনিটি!

আবার ইনডেমনিটি!
শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টারঃ ১৪ই অক্টোবর, ২০২৪।

গত ১৫ই জুলাই থেকে ৮ই আগস্ট পর্যন্ত “জুলাই অভ্যুথান” এর সংশ্লিষ্ট ঘটনার জন্য কোন মামলা, গ্রেফতার, হয়রানি করা যাবে না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় এ কথা জানিয়েছে।

আজ সোমবার, ১৪ই অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ৫ই আগস্ট ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের মাধ্যমে  যে বৈষম্যমুক্ত নতুন বাংলাদেশের সূচনা হয়েছে, সেই আন্দোলনে সংশ্লিষ্ট কারো বিরুদ্ধে কোন আইনগত ব্যাবস্থা নেয়া যাবে না। মন্ত্রনালয় পক্ষ থেকে এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। অর্থাৎ আদালত থেকে শুরু করে স্থানীয় থানাকেও এই সতর্কতার মধ্যে আনা হয়েছে, যেনো তারা এতদ সংশ্লিষ্ট কোন মামলা গ্রহন না করে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, আওয়ামিলীগ শাসিত সরকারের পতন হয় ৫ই আগস্ট। তার আগের দিন ৪ঠা আগস্ট সন্ধ্যায় কারফিউ বলবত করে সেনাবাহিনীকে মাঠে নামানো হয়। তার আগের দিন ৩রা আগস্ট সিরাজগঞ্জে এনায়েতপুর থানায় হামলা করে অন্তঃসত্ত্বা এক নারী পুলিশ অফিসার সহ ১৩ জনকে হত্যা করা হয়। পরের দুইদিন ৪ ও ৫ই আগস্ট সারা দেশব্যাপী ৪০০ থানা লুট করে ছাত্র জনতা আর নির্বিচারে পুলিশ হত্যা করে। বিশ্লেষকদের মতে ৩রা আগস্ট থেকে ৮ই আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশে কমপক্ষে ১২শ থেকে ১৫শ পুলিশ হত্যা করা হয়েছে। যদিও মিডিয়ায় এসেছে শুধু যাত্রাবাড়ির পুলিশ ফাঁড়ী লুট করে ৪৩ জন পুলিশ হত্যার কিছু ছবি। এছাড়াও বিক্ষিপ্ত ভাবে সারা দেশেই পুলিশ সহ নির্বিচারে আওয়ামিলীগের নেতা কর্মি, ধর্মীয় সংখ্যালঘু, আদিবাসী, সাধারন ব্যাবসায়ী থেকে শুরু করে হাজারো মানুষ হত্যার খবর আর ছবি আসতে থাকে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

বর্তমানের অন্তবর্তিকালীন সরকারের শপথ পাঠের মধ্য দিয়ে ক্ষমতা গ্রহন করে ৮ই আগস্ট সন্ধ্যায়। তার আগ পর্যন্ত সারা দেশে কার্যত কোন আইনশৃঙ্খলা ছিল না। দেধারছে হত্যা, লুন্ঠন, ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান লুট, আগুন দেয়া চলছিল সারা দেশ জুড়ে।  

আজকের জারী হওয়া এই ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ সেই সকল হত্যা, লুণ্ঠন, ধর্ষন, অগ্নিসংযোগজনিত সকল অপরাধকে খারিজ করে দিল। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই ইনডেমনিটি দেয়া নতুন কোন ঘটনা নয়। ১৯৭৫ সালে সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যা এবং পরবর্তিতে জেলে চার নেতা হত্যার ঘটনাতেও ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারী করা হয়েছিল। ১৯৭৮ সালে’র অক্টোবর মাস থেকে গঠিত গনআদালতের মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীর সাড়ে ৩ হাজার মুক্তিযুদ্ধপন্থি অফিসারদের বিচারের নামে প্রহসন ও গণফাসীকে ইনডেমনিটি দেয়া হয়েছিল। ২০০১ সালে নির্বাচন উত্তর ভয়াল অক্টোবরের সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ও আওয়ামিলীগ নেতাকর্মিদের হত্যা, ধর্ষন, লুট, অগ্নিসংযোগে হতাহতের সংখ্যাটা ছিল আট হাজারেরও বেশী। সেই অপারেশন ক্লিনহার্টকেও দেয়া হয়েছিল ইনডেমনিটি।  

Visited 20 times, 1 visit(s) today