নিজস্ব সংবাদদাতা:
গত ৫ই আগস্টের পর দেশজুড়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন, নিপীড়ন, হত্যাকান্ডের ঘটনা এবং সর্বশেষ অনুষ্ঠিত দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে নানাবিধ ‘উৎপাত’ শেষে এবার ঘটলো আরেক হৃদয়বিদারক ঘটনা।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের মধ্যম মাহমুদাবাদ এলাকায় লোকনাথ মন্দিরের সেবায়েত সুকুমার দাসের (৮০) রহস্যময় মৃত্যু ঘটেছে। একটি গাছের ডালে গলায় দড়ি বাঁধা সুকুমার দাসের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ সোমবার ১৪ই অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
তবে ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা নিশ্চিত করে বলতে পারেনি পুলিশ।
নিহত সুকুমার দাস ওই এলাকার একটি বাড়িতে থাকতেন। তার চার ছেলে ও চার মেয়ে রয়েছে। তিনি পারিবারিকভাবে প্রতিষ্ঠিত লোকনাথ মন্দিরের সেবায়েত হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
সরেজমিন দেখা গেছে সুকুমার দাসের লাশ তার বাড়ির পাশেই পুকুরপাড়ে একটি আমলকি গাছের সঙ্গে একটি দড়িতে ঝুলছে। স্থানীয় জনতা এ ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান।
প্রতিবেদকের কথা হয় সুকুমার দাসের দ্বিতীয় পুত্র ঝন্টু দাসের সঙ্গে। তিনি জানান তার বাবা আত্মহত্যা করার মত ব্যক্তি নন। পারিবারিক বা আর্থিক কোনো সমস্যাতেও তিনি ভুগছিলেন না। ঝন্টুর ধারণা, তার পিতাকে কেউ হত্যা করে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখেছে।
তার এমনটা মনে হওয়ার কারণ জানতে চাইলে ঝন্টু বলেন, বাবার শরীর মাটি স্পর্শ করে ছিল। কেউ আত্মহত্যা করলে এত সরু দড়ি বেছে নেবে না। তাছাড়া লাশও মাটি থেকে উঁচুতে থাকার কথা।
স্থানীয় প্রদীপ, বাবলু, শরীফুলসহ প্রতিবেশীরা জানান, সুকুমার দাস অত্যন্ত সজ্জন ব্যক্তি। তার সাথে কারো বিরোধ বা বিবাদ ছিল না। আর্থিক বা মানসিক সমস্যাও ছিল না তার। কেন এমন একজন মানুষ আত্মহত্যা করবেন? স্থানীয়দের ধারণা, তাকে কেউ হত্যা করে এভাবে লাশ ঝুলিয়ে রেখে গেছে। এত সরু দড়ি লাশের গলায় বেঁধে গাছের ডালে তুলতে পারেনি বলেই লাশ মাটি ছুঁয়ে আছে।
স্থানীয়রা আরও জানান, লোকনাথ মন্দির প্রতিষ্ঠার পর থেকে সুকুমার দাস সেখানে সেবায়েতের দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রতিদিন তিনি রাত ৮টার মধ্যে রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। ভোরে ঘুম থেকে উঠে এরপর মন্দিরে এসে চারদিক পরিষ্কার করে তারপর প্রার্থনায় বসেন।
সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবর রহমান বলেন, স্থানীয়দের সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সুকুমার দাসের লাশ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। ঘটনাটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা নিশ্চিত হতে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
ওসি জানান স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ঘটনাটি রহস্যজনক মনে হয়েছে তার। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে মামলা করা হবে জানিয়েছেন তিনি।
