ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড ও বাংলাদেশের সম্ভাবনা!
ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড কি?
সময়ের পরিক্রমায় প্রতিটি জনপদে পরিকল্পিত ও নিয়ন্ত্রিত জনসংখ্যা ব্যাবস্থাপনা বজায় থাকলে প্রতি ৮০ বছরে এমন একটা সময় আসে যখন সেই জনপদে কর্মক্ষম বয়সের জনগোষ্ঠীর পরিমান সবচেয়ে বেশী হয়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর বয়সের সীমা ১৫ থেকে ৬৪ পর্যন্ত।
২০২২ সালের আদমশুমারি অনুযায়ি বর্তমানে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা ১৬.৫১ কোটি জনগন এর মধ্যে ১০.৮ কোটি মানুষ এই কর্মক্ষম বয়েসের মধ্যে রয়েছে। যা মোট জনসংখ্যার ৬৫.৬%। অর্থনীতির তত্ত্বমতে, কোন জনপদে যখন নির্ভরশীল লোকের তুলনায় কর্মক্ষম লোকের সংখ্যা বেশী থাকে তখন সেই জনপদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা খুব দ্রুত হয়। কারন, উতপাদনশীল লোকের সংখ্যা বেশী হওয়ায় তাদের অর্থনীতিতে অবদান রাখার সুযোগ বেশী থাকে।
অর্থনীতিবিদদের হিসাব অনুযায়ি বাংলাদেশের কর্মক্ষম জনসংখ্যার এই সংখ্যাধিক্যের সুবিধার সুযোগ ২০৪৫ সাল পর্যন্ত থাকবে। আর ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড এ প্রবেশের সময়টা ধরা হয় ২০১৫ সাল থেকে।

অন্নান্য দেশের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিঃ

চীন
১৯৭১ সাল থেকে চীনের জনসংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রিত হতে থাকে। ২০০৪ সালে এসে চীনের জনসংখ্যা নির্ভরশীল আর সক্ষম জনসংখ্যার অনুপাত দাঁড়ায় ১ঃ১.৭ এ। কর্মক্ষম জনসংখ্যার বৃদ্ধির প্রথমার্ধে ১৯৮০ থেকে ১৯৯৫ সালের মধ্যে চীনের অর্থনীতি বছরে ১০.৫% হারে বাড়তে থাকে। যদিও চীনের ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল সেক্টরের পক্ষে সেই মুহুর্তে প্রতিবছর ১ কোটি কর্মিকে কাজ দেয়ার সক্ষমতা ছিল না, কারন চীনে সেই মুহুর্তে শিল্পের বিকাশ খুব ধীরে হচ্ছিল। পরবর্তিতে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান এবং অর্থনৈতিক ব্যাবস্থা উদার অর্থনীতি গ্রহন করার কারনে দারুনভাবে দক্ষতা ও সক্ষমতা অর্জন করে। চীন সেই সময়ে শ্রমভিত্তিক শিল্পের চেয়ে স্থানীয় পুজিভিত্তিক শিল্পকে প্রাধান্য দেয়, যে কারনে সামগ্রিক ভাবে চীনের অর্থনীতিতে উষ্ফালন দেখা যায় পরবর্তি দশকগুলোতে।

দ্বিতীয়ার্ধে, ১৯৯৫ থেকে ২০১৫, সময়ে এসে চীনের উচ্চ প্রবৃদ্ধি অব্যাহত ছিল। জিডিপি’র ৪০% সঞ্চয় হার, এবং অব্যাহত বিদেশী বিনিয়োগের ফলে শক্ত ভিত্তিতে দাঁড়িয়ে যায় চীনের অর্থনীতি, যার প্রভাব বর্তমানে বিশ্ব বাণিজ্যে পরিলক্ষিত হচ্ছে।
যদিও চীনের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড এর সময়কাল ২০১৫ তে শেষ হয়েছে গিয়েছে, কিন্তু সেই কর্মক্ষম গোষ্ঠীকে সুযোগ সুবিধা দিয়ে তদের সক্ষমতাকে কাজে লাগানোর কারনে ২০২২ সালে চীনের পার ক্যাপিটা ইনকাম ছিল ১২,৭২০ ডলার, যা ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের প্রথমার্ধে (১৯৮০-১৯৯৫) ছিল গড়ে ৩১৯ ডলার এবং দ্বিতিয়ার্ধে (১৯৯৬ থেকে ২০১৫) যার গড় ছিল ৩১০৬ ডলার ।
ভারত
ভারতে ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ৬০কোটিরও বেশি লোকের বাসস্থান, যার ৬৫% লোকের বয়স ৩৫ বছরের কম। ভারতের জনসংখ্যাগত এই সুবিধা কমপক্ষে ২০৫৫-৫৬ পর্যন্ত টিকে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে এবং ২০৪১ সালের দিকে সর্বোচ্চ হবে, যখন কর্মক্ষম বয়সী অর্থাৎ ২০ থেকে ৫৯ বছর বয়েসী জনসংখ্যা হবে ৫৯%। এটি এমন একটি সুযোগ, যা সঠিক শর্ত এবং অর্থনোতিক অবকাঠামো প্রয়োগ করলে ২০২৫ এর মধ্যে চীনকে টেক্কা দিয়ে পৃথবীর সবচেয়ে বৃহত অর্থনীতির দেশ হবে ভারত। ইউএস পরিসংখ্যান ব্যুরো এমনটাই ভবিষ্যতবানী করেছে। যোগাযোগব্যাবস্থার উন্নয়ন, কাঠামোগত উন্নয়ন, শিল্পন্নয়নের জিডিপি’র সঠিক্ ব্যাবহার, শিক্ষার ব্যাপ্তি, জনগনের জীবনমান, চিকিৎসা সুবিধা বৃদ্ধির এই ধারা যদি ভারত ধরে রাখতে পারে তাহলে প্রতি বছর ২% হারে মাথাপিছু জিডিপি বৃদ্ধি পাবে বলে ধারনা করা হচ্ছে। এছাড়াও ভারতের জনগনের জীবনমান বৃদ্ধির জন্য খাদ্য, খাবার পানি, জ্বালানি সহ ভবিষ্যতের ন্যুনতম মৌলিক অধিকারগুলো নিশ্চিত করার জন্য সরকার, প্রশাসন এবং রাষ্টয়াত্ত্ব প্রতিষ্ঠানগুলোর আন্তরিক চেষ্টা খুবই জরুরি।

ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডকে সক্ষমতায় পর্যবসিত করার নিয়ামকসমূহঃ
সর্বোচ্চ কর্মক্ষম জনসংখ্যা শুধু থাকলেই হয় না, সেই কর্মক্ষমতাকে কাজে লাগাতে কিছু মৌলিক অবকাঠামো প্রয়োজন। যা নিশ্চিত করতে পারে রাষ্ট্র এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলো।
১। যোগাযোগব্যাবস্থার উন্নয়নঃ
যে কোন জনপদে উন্নয়নের সবচেয়ে প্রধান নিয়ামক হচ্ছে যোগাযোগ ব্যাবস্থা।

স্থানীয় মেধা, শ্রম, পণ্য উন্নতি এবং বৃদ্ধির লক্ষে অনায়াসে যেনো সেইসকল স্থানে অভিভাসন করতে পারে, যেখানে উপযোগীতা বা চাহিদা আছে, তবেই স্থানীয় জনগনের আয় বাড়বে, বাড়বে দক্ষতা, বাড়বে জীবনমান। মাইক্রো ইকোনমির এই বর্ধনে সবচেয়ে বেশী ভূমিকা রাখে যোগাযোগব্যাবস্থা।
ইতিমধ্যে আমরা দেখেছি বাংলাদেশের যোগাযোগ খাতে বৈপ্লবিক যুগের সুচনা হয়েছে পদ্মা সেতু স্বপ্ন পুরনের মাধ্যমে। একই সাথে, সড়ক, রেল, নৌ প্রতিটা ক্ষেত্রেই অভাবনীয় সাফল্য লক্ষ্য করা গেছে বিগত বছরগুলো তে। এই যোগাযোগ ব্যাবস্থার উন্নতির কারনে স্থানীয় উপযোগ সৃষ্টির সাথে সাথে বেড়েছে সার্বিক উপযোগ পুরনে পণ্য ও মেধার অবাধ অভিভাসন।
২। শিক্ষা ও মেধা উন্নয়নঃ

কর্মক্ষম জনসংখ্যাকে অনুউৎপাদনশীল খাতে ব্যাবহার করলে অর্থনোতিক প্রবৃদ্ধি হবে না। শুধু অল্প টাকায় কায়িক শ্রম বিক্রি করে অর্থনোতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব নয়। কর্মক্ষম জনগোষ্ঠির মেধা আর দক্ষতা বৃদ্ধিতে তাই শিক্ষার ভূমিকা সবচেয়ে বড় নিয়ামক হিসাবে কাজ করে। আধুনিক সময় ও চাহিদার সাথে মিল রেখে সমন্বিত ও কার্যকর উৎপাদনমুখী শিক্ষাব্যাবস্থা একটি জাতির মূল মেরুদন্ড গড়ে দেয়।
শুধু নিরপেক্ষতা দুরিকরনই না, আমাদের কর্ম-ভিত্তিক শিক্ষার দিকে মনোযোগ দিতে হবে। সেই লক্ষে সারাদেশে ৪৯ টি নতুন পলিটেকনিক্যাল ইন্সটিটিউট করা হয়েছে, আর এছাড়াও প্রতিটা জেলায় হয়েছে আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। সবাইকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে, এমন কোন কথা নাই, এটা অর্থনোতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিতও করে না। প্রয়োজন মধ্যম সারির কর্মক্ষেত্রগুলোতে মেধা আর উপযুক্ত কারিগরি প্রশিক্ষনের ব্যাবস্থা করা। কৃষি চাষ বা পোল্ট্রি ব্যাবসা করা একজন কৃষক বা খামারি যেনো উপযুক্ত জ্ঞান আর প্রশিক্ষন নিয়ে তার ব্যাবসা পরিচালনা করতে পারে, সেটা নিশ্চিত করতে হবে সরকারকে।

৩। বিদ্যুৎ ও জ্বালানীঃ
কর্মক্ষম জনগোষ্ঠির সক্ষমতা বৃদ্ধি আর উতপাদনশীলতার জন্য প্রয়োজন এনার্জির। সেটা বিদ্যুৎ থেকে শুরু করে শিল্প ও কৃষির জ্বালানি নিশ্চিত করতে হবে। তবেই শিল্প ও কৃষির বিকাশ লাভ সম্ভব। বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য খাত গুলোর মধ্যে যেই খাতে সবচেয়ে বেশী বিনিয়োগ আর উন্নতি হয়েছে তার অন্যতম হচ্ছে বিদ্যুৎ খাত। বর্তমানে বিদ্যুৎ খাতের সক্ষমতার চিত্র নিম্নরূপ

৪। শিল্পান্নয়ন।
বর্তমান বিশ্বয়ানের যুগে শিল্পের চাহিদা সবত্র, হোক সে মাঝারি শিল্প বা ভারীশিল্প। শিল্পয়নই পারে সর্বোচ্চ অর্থনোইতিক সমৃদ্ধি আনতে। শিল্পের বিকাশের জন্য কিছু অবকাঠামগত উন্নয়ন প্রয়োজন, একইসাথে প্রয়োজন ভৈতিক অবাঠামগত উন্নয়ন। অবকাথামগত উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন আধুনিক যোগাযোগ ব্যাবস্থা, যেন পন্য ও কাচামাল খুব অল্প খরচে দ্রুত পরিবহন করা যায়, তেমনি প্রয়োজন এনার্জির, যেন নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন অব্যাহত রাখা যায়। এবং প্রয়োজন সুযোগ সুবিধা সম্বলিত শিল্পাঞ্চল।
শিল্লপন্নায়নের সেই লক্ষ্যেকে সামনে রেখে শিল্পের বহুমুখীকরণ এবং কর্মসংস্থান, উৎপাদন ও রপ্তানি বৃদ্ধির মাধ্যমে দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়নকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে দেশের সম্ভাব্য এলাকায় অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কাজ এগিয়ে চলছে। সেই লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে, BEZA এখন পর্যন্ত ৬৮টি সরকারি ও ২৯টি বেসরকারি ইকোনমিকাল জোন নিয়ে দেশব্যাপী ৯৭টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দিয়েছে। এই অনুমোদিত ইজেডগুলির জন্য সম্ভাব্যতা নিরুপন, জমি অধিগ্রহণ এবং এলাকা নির্দিষ্ট সামাজিক এবং পরিবেশগত উদ্যোগগুলি চিহ্নিত করার কাজ চলছে।

ভৌতিক অবকাঠামগত উন্নয়নের লক্ষ্য হিসাবে প্রনয়ন করা হয়েছে জাতীয় শিল্পনীতিত ২০২২। দেশিয় কাচামাল ও সম্পদ ব্যাবহার করে শ্রমঘন শিল্পয়নের পাশাপাশি চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রযুক্তিগত সুবিধাকে ধারন করে বাংলাদেশকে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করা, খাতভিত্তিক উতপাদনশীলতা বৃদ্ধি করা এবং উতপাদিত পণ্যের গনগতমানের উতকর্ষসাধনই জাতীয় শিল্পনীতি ২০২২ এর মূল উদ্দেশ্য।
৫। বৈদেশিক বিনিয়োগ
যে কোন দেশের অর্থনোতিক অগ্রযাত্রার মূল নিয়ামক হচ্ছে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে পারা। চীন পেরেছে, ভারত পারছে। আর এই জন্য প্রয়োজন সঠিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন, স্থিতিশীল পরিস্থিতি, কম মূল্যের শ্রমিক এবং সহননীয় নিয়মনীতি ও উদার অর্থনীতি। বাংলাদেশ বিগত দশকে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে যথেষ্ট সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছে। যদিও ২০২০/২১ এ মহামারির কারনে বিনিয়োগের ধারায় ছেদ পড়েছে, তবুও একটি স্থিতিশীল সরকার ব্যাবস্থা ও স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিশ্চিত করার ফলে বৈদেশিক বিনিয়োগের একটা উষ্ফালন দেখা গেছে বিগত দশকে।
আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে বাংলাদেশে, যা আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোকে এখানে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করবে। BEZA সূত্রে জানা গেছে, এই অর্থনৈতিক অঞ্চলে অটোমোবাইল অ্যাসেম্বলি, মোটরসাইকেল, মোবাইল হ্যান্ডসেট, এগ্রো ফুড, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, গার্মেন্টস, ফার্মাসিউটিক্যাল, প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন খাতের কোম্পানি স্থাপন করা হবে। টয়োটা, মিতসুবিশি এবং সুমিতোমোর মতো জাপানি কোম্পানি ইতিমধ্যেই এখানে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে।

৬। কর্মসংস্থানঃ
চতুর্থ শিল্প বিপ্লব আসছে ও আধুনিক বিশ্বের প্রযুক্তি পরিবর্তন হচ্ছে। ফলে আমাদের উৎপাদন, প্রযুক্তি ও শ্রমিকদের দক্ষতা সেটার ব্যাপক পরিবর্তন করা দরকার। তার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার জাতীয় কর্মসংস্থান নীতি ২০২২ প্রনয়ন করেছে। এটার মূল উদ্দেশ্য দেশের শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি। কর্মসংস্থান প্রত্যাশী মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, জনশক্তিকে কর্মশক্তি উপযোগী ও দক্ষ করে তোলার মাধ্যমে বেকারত্বহীন দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত সমাজ প্রতিষ্ঠাই এই নীতির লক্ষ্য। নীতির লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ৩ কোটি নতুন চাকরি তৈরি করা এবং ২০৪১ সালের মধ্যে বেকারত্বকে সর্বনিম্ন স্তরে নিয়ে যাওয়া। নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে যে বেকার এবং “ছদ্মবেশী বেকার” লোকের সংখ্যা ২৭ লক্ষ এবং ১ কোটি ২৫ লক্ষ এবং ৬ কোটিরও বেশি লোক কাজ করতে সক্ষম। সরকারের সামগ্রিক রুপকল্প ২০৪১ অর্জনের লক্ষ্যে জনশক্তির দক্ষতা, উৎপাদনশীলতা ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির মাধ্যমে ২০২৭ সালের মধ্যে জাতীয় আয়ে শিল্পখাতের অবদান ৪০% উন্নিতকরন এই নীতিমালার লক্ষ্য।


অর্থনোতিক উষ্ফালনের দিকে যাত্রা
অভ্যন্তরীন অর্থনীতিতে লেনদেনের মাত্রা যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে বিগত এক দশকে তেমনি বেড়েছে অভ্যন্তরীন রাজস্বি সংগ্রহের পরিমান। ২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশ সাড়ে ৭ লাখ কোটি টাকার বাজেট প্রনয়ন করেছে। যার মধ্যে প্রায় ৫৭% শতাংশ নিজস্ব আয় থেকে। এক দশক আগে রাষ্ট্রের আয়ের পরিমান ছিল ১,৭৬৩ বিলিয়ন টাকা, যা বর্তমানে ৪,৩০০ বিলিয়ন টাকার মতো। রাষ্ট্রের আয় বৃদ্ধির সাথে সেই আয় জনগনের জীবন মান উন্নয়নের জন্য সঠিক ভাবে ও পরিকল্পিত ভাবে খরচ করলেই রাষ্ট্রের প্রতিটা নাগরিক এর সুফল ভোগ করবে ব্যাক্তিগত আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে। ব্যাক্তির আয়, পরিবারের আয় বৃদ্ধি আর জীবন মানের উন্নতি ঘটলেই হবে শ্রেনী উন্নয়ন। নিম্নবিত্তের উষ্ফালন হবে মধ্যেবিত্ত শ্রেনীতে আর মধ্যেবিত্ত শ্রেনীর উষ্ফালন হবে উচ্চবিত্ত শ্রেনীতে। রাষ্ট্রের উন্নয়নের একমাত্র লক্ষই হচ্ছে জনসাধারনের শ্রেনী উন্নয়নের পথ নিষ্কন্টক করতে পারা।

সকল অর্থনৈতিক সূচক এটাই নির্দেশ করে যে উন্নত দেশ হবার মতো সকল নিয়ামক বর্তমানে বাংলাদেশে উপস্থিত, শুধুমাত্র দরকার এই নিয়ামকসমূহকে সঠিক ভাবে পরিচালিত করতে পারা। অন্তত আগামী ১০ বছর এই ধারা ধরে রাখতে পারলে বাংলাদেশের অর্থনীতি হবে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি, যেখানে থাকবে প্রচুর কর্মসংস্থান থাকবে প্রচুর দক্ষ শ্রমিক আর শ্রেনী উন্নয়নের অপার সম্ভাবনা।
সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬• বিশ্লেষণ
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এর প্রতিবেদনঃ “কেন ডিসেম্বরেই ঢাকায় ফিরতে চান শেখ হাসিনা?”
সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬• খেলাধুলা
ভারতের বিপক্ষেও ‘প্রীতি নয়’, যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে খেলবে ব্রাজিল
সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬• খেলাধুলা
